দিল্লি বিস্ফোরণের জেরে দিঘায় হাই অ্যালার্ট, চলছে কড়া নাকা চেকিং

Eight Hours digha of Torrential Rain Lash Tourist Hub, Businesses Face Heavy Losses
Eight Hours digha of Torrential Rain Lash Tourist Hub, Businesses Face Heavy Losses

দিঘা: দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছাকাছি একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর গোটা দেশে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের আবহ। যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত এটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিশ্চিত করেনি, তবু নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই দেশে জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট। ঘটনার প্রভাব পৌঁছেছে বাংলার উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দিঘাতেও (Digha)।

সোমবার মধ্যরাত থেকেই বাংলা–ওড়িশা সীমান্তে শুরু হয়েছে ব্যাপক নাকা চেকিং। দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমনি এবং তালসারি থেকে প্রবেশ ও বহির্গমনের সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। দিঘা মোহনা সংলগ্ন এলাকা থেকে চাউলখোলা, উদয়পুর, রামনগর বর্ডার পয়েন্ট পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় চলছে ২৪ ঘণ্টার পাহারা।

   

সূত্রের খবর, ছোট গাড়ি, বড় গাড়ি, পর্যটকদের বাইক, টুরিস্ট বাস, সরকারি–বেসরকারি বাস, পণ্যবাহী ট্রাক সব ধরনের যান থামিয়ে তল্লাশি, নথি যাচাই ও যাত্রী পরিচয় পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রতিটি যাত্রীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কোথা থেকে আসছেন ও কোথায় যাচ্ছেন সব তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করছে। শুধু তাই নয়, গাড়ির ডিকি, সিটের নীচ, লাগেজ, পার্সেল, ব্যাগ এমনকি ট্রাকের ভিতরের মালপত্রও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “এটা রুটিন চেকিং নয়। দিল্লির ঘটনার পর কোনওভাবেই যেন সন্দেহভাজন ব্যক্তি, বিস্ফোরক সামগ্রী বা বেআইনি দ্রব্য সীমান্ত পেরোতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

জানা গেছে, শুধু স্থলপথেই নয়, উপকূলবর্তী নদী ও সমুদ্রপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্টাল পুলিশ ও মেরিন টিমও টহল দিচ্ছে। সন্দেহজনক নৌকা বা মাছধরা ট্রলার দেখা গেলে সেগুলিতেও চালানো হচ্ছে পরীক্ষা।

দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মাধ্যমে শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরো ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তভার সামলাচ্ছে NIA, NSG ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। দিল্লি মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক হতাহতের খবর মিললেও তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছুই নিশ্চিত বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে দিঘায় নাকা চেকিংয়ের কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে সাময়িক দেরি হলেও বেশিরভাগ মানুষই প্রশাসনের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কলকাতা থেকে দিঘায় বেড়াতে আসা এক পর্যটক বলেন, “নিরাপত্তা থাকলে দেরি হলেও ক্ষতি নেই। এই রকম সময়ে কড়া নজরদারি খুবই জরুরি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কোথাও সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা আচরণ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দিতে হবে। দিঘা থানার কন্ট্রোলরুম নম্বর ও টহল টিম সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা শিথিল করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন