অনুপ্রবেশের লাগাম নেই, কাজের খোঁজে সীমান্ত পেরোচ্ছে বাংলাদেশিরা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা যেন থামছেই না (Bangladeshi)। কাজের সন্ধানে, পেটের দায়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকছেন একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিক। সাম্প্রতিক…

bangladeshi-infiltration-west-bengal-border

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা যেন থামছেই না (Bangladeshi)। কাজের সন্ধানে, পেটের দায়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকছেন একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিক। সাম্প্রতিক কয়েকদিনে নদীয়া, মালদা ও মুর্শিদাবাদের একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ফের উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।

Advertisements

নদীয়া জেলার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুরুটিয়া থানার অন্তর্গত এলাকায় সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সমিরুল মণ্ডল ও রকি ইসলাম। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায়।

   

মাত্র ২ ঘণ্টায় ১২ চুক্তি! মোদী-এমবিজেড ‘সিক্রেট’ বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে দালালের সাহায্যে কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে তারা। মঙ্গলবার সকালে সীমান্তবর্তী শিকারপুর গ্রামে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দিলে মুরুটিয়া থানার পুলিশ এসে তাদের আটক করে।

একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে মালদা জেলার হবিবপুর থেকেও। সোমবার রাতে হবিবপুর থানার বৈদ্যপুর অঞ্চলের মধ্যপাড়া এলাকায় কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ চারজনকে আটক করে। একই সময়ে আগ্রা–হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার ৮৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের বিএসএফ আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে এবং পরে তাঁকে হবিবপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এই ঘটনায় মোট পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম ভীম রয়, রতন রায়, শিপন রায়, দুর্জয় মণ্ডল এবং মোহাম্মদ আজহার আলী। প্রত্যেকেরই বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায়। মঙ্গলবার তাঁদের মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ।

এর আগেও, ১৮ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জয়রামপুর এলাকা থেকে আরও দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম সুমন শেখ ও বাবু শেখ। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার পাখুরিয়া গ্রামে।

অভিযোগ, শুক্রবার রাতে নদী পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তাঁরা। ধৃতদের দাবি, তাঁরা রাজমিস্ত্রির কাজের সন্ধানেই ভারতে এসেছিলেন। পরে জঙ্গিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পরপর এই গ্রেফতারের ঘটনাগুলি ফের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সীমান্তে নজরদারি থাকলেও দালালচক্র সক্রিয় থাকায় অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে কাজের টানে বহু বাংলাদেশি যুবক ঝুঁকি নিয়ে কাঁটাতার বা নদীপথ পেরিয়ে বাংলায় ঢুকছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার অভিযোগ আগেই তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপির দাবি, লাগামছাড়া অনুপ্রবেশ রাজ্যের নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য বড় বিপদ। অন্যদিকে, শাসক দলের একাংশের বক্তব্য, দারিদ্র্য ও কাজের অভাবই এই অনুপ্রবেশের মূল কারণ, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Advertisements