
‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের জাতীয় জাগরণের মন্ত্র—এভাবেই জাতীয় সংগীতকে ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার নদিয়া জেলায় ভার্চুয়ালি এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর যোগসূত্রের কথা তুলে ধরেন। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেই মোদীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
‘বন্দে মাতরম’-এর জন্মভূমি বাংলা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্মভূমি বাংলা। এই গানই দেশের মানুষের মনে জাতীয় চেতনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি স্মরণ করেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে—যাঁর কলমেই ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম রূপ পায়। মোদীর কথায়, “বঙ্কিমচন্দ্র এই গান দিয়ে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন।”
বক্তব্যে বাংলার ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। নদিয়াকে চৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র ভূমি বলে অভিহিত করে তিনি শ্রদ্ধা জানান সমাজসংস্কারক শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও বড়মার প্রতি। তাঁর মতে, এই মনীষীরা সমাজকে ঐক্য, মানবতা ও সংস্কারের পথ দেখিয়েছেন—যার প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট।
‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান PM Modi Vande Mataram speech
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ দিনের ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিরাচরিত ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেন। রাজনৈতিক মহলে এই পরিবর্তনকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সচেতন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গঙ্গা নদী প্রসঙ্গেও কথা বলেন মোদী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কীভাবে গঙ্গা বিহার থেকে বাংলায় প্রবাহিত হয়ে কেবল ভৌগোলিক নয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংযোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তবে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক আক্রমণও। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে এবং প্রশাসন কমিশন-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মোদীর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং সেই দাবি উঠছে ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি চাই’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে।
‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক
প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই সংসদের দুই কক্ষে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বলেন, এতে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা খর্ব হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের ‘বন্দে মাতরম’ পাঠের সময় ওয়াকআউটকে অসম্মানজনক বলে কটাক্ষ করেন।
সব মিলিয়ে, নদিয়ার সভা থেকে মোদীর ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক স্মরণ নয়—তা বাংলার ইতিহাস, জাতীয়তাবাদ এবং আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।










