
কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর: বাংলার আকাশে গত কয়েকদিন ধরে বর্ষার মতো বেমৌসুম (West Bengal Weather Update)বৃষ্টির ছায়া পড়েছিল, যা জনজীবনকে বেশ কিছুটা বিপর্যস্ত করেছিল। কিন্তু আজ থেকে সেই অস্বস্তি কেটে যাওয়ার সংবাদ এনেছে ভারতীয় উল্লম্ব বায়ুতত্ত্ব বিভাগ (আইএমডি)। উত্তর ও দক্ষিণ বাংলায় আজ শুকনো ও আংশিক মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করবে, যাতে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
তবে, শীতের প্রথম ঠান্ডা ছোঁয়ায় সকালের ঘন কুয়াশা এবং হাড়কাঁপানো শীতলতা যেন সবাইকে ঢেকে ফেলেছে। আইএমডি-র রিপোর্ট অনুসারে, উত্তর বাংলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রুটি নেবে, যখন দক্ষিণাঞ্চলে ১২-১৪ ডিগ্রির স্তরে নামবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উভয় অঞ্চলে ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে, যা গত সপ্তাহের বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার পর একটা স্বস্তির নিশ্বাস এনে দিয়েছে।
নর্থইস্টের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিয়েছেন তানবীর?
উত্তর বাংলায়, যেখানে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ঠান্ডা আরও তীব্র, সেখানে আজ সকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৫০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে। আইএমডি-র সতর্কতায় বলা হয়েছে, ১২-১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসাম-মেঘালয়ের সঙ্গে যুক্ত উত্তর বাংলার কিছু অংশে ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে।
ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, “জলপাইগুড়ি-সীমান্তবর্তী রাস্তায় কুয়াশার কারণে গাড়ির গতি কমাতে হচ্ছে, ড্রাইভাররা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলুন।” দক্ষিণ বাংলায় কলকাতায় আজ সকালে কুয়াশার পর্দা তুলে মৃদু রোদ উঁকি দিয়েছে, কিন্তু দুপুরের পর মেঘলা আকাশে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি সীমাবদ্ধ থাকবে। বীরভূম, বাঁকুড়ার মতো জেলায় কোল্ড ওয়েভের সূচনা হতে পারে, যেখানে সর্বনিম্ন ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামবে।
আইএমডি-র বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট যে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পশ্চিম উপকূলে সরে যাওয়ায় বাংলায় বৃষ্টির শেষ হয়েছে। পরের সাত দিনে উত্তর বাংলায় শুকনো আবহাওয়া থাকলেও, হিমালয়ের পাদদেশে হালকা শীতকর বাতাস প্রবেশ করতে পারে। দক্ষিণে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ববর্ধমানে আংশিক মেঘলা আকাশ সকাল-দুপুরে দেখা যাবে, কিন্তু বিকেলে রোদের ছোঁয়া লাগবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শীতের শুরুতে ঘন কুয়াশা শ্বাসকষ্ট এবং অ্যালার্জির রোগ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য। উষ্ণ কাপড় পরুন এবং বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।” কৃষক সংগঠনগুলো আইএমডি-র পূর্বাভাসকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ শুকনো আবহাওয়া ফসল সংরক্ষণে সাহায্য করবে।







