
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে আজ, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, জাঁকিয়ে ঠান্ডা এবং ঘন কুয়াশার দাপট চলছে (West Bengal)। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে, কিন্তু তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় কনকনে শীতের অনুভূতি হবে। কোথাও কোথাও কোল্ড ওয়েভের মতো পরিস্থিতি এবং ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে সকালে রাস্তায় বেরোলে।দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতা সহ গাঙ্গেয় অঞ্চলে ঠান্ডার দাপট সবচেয়ে বেশি। গতকাল কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা জানুয়ারি মাসের জন্য বিরল। আজ আরও ২-৩ ডিগ্রি কমতে পারে বলে আশঙ্কা। আলিপুরে সর্বনিম্ন ১০.৩ ডিগ্রি, দমদমে ৯.৮ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে।
২০ লক্ষ পড়ুয়াকে ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা অবিজেপি রাজ্য সরকারের
বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এই জেলাগুলোতে কোল্ড ওয়েভের মতো অবস্থা চলছে। সকালে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নীচে নেমে যেতে পারে, যা ট্রাফিক এবং যাতায়াতে বড় প্রভাব ফেলবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমী হাওয়ার জেরে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে, যা তাপমাত্রাকে আরও নামিয়ে দিচ্ছে।
দিনের বেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে, কিন্তু শীতের অনুভূতি থাকবে তীব্র। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, শুষ্ক আবহাওয়াই চলবে।উত্তরবঙ্গের ছবি আরও কঠিন। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে কোল্ড ডে কন্ডিশন চলছে, যা আজও অব্যাহত থাকবে। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫-৮ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে।
পাহাড়ি এলাকায় হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা ছিল গত সপ্তাহে, কিন্তু আজ শুষ্ক থাকবে। তবে ঘন কুয়াশা সকালে দৃশ্যমানতা শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে দেবে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও কোল্ড ওয়েভের সতর্কতা জারি। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় শীতের তীব্রতা দক্ষিণবঙ্গের থেকে বেশি, কারণ উত্তরের ঠান্ডা হাওয়া সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই ঠান্ডা এবং কুয়াশার জেরে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে। বয়স্ক এবং শিশুদের বাইরে বেরোনো কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন, কারণ কুয়াশায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। রেল এবং বিমান পরিষেবাতেও বিলম্ব হতে পারে। গত সপ্তাহ থেকে চলা এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকবে, তারপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।








