উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বপ্ন (Jalpaiguri)অবশেষে সত্যি হল। শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর এলাকায় কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের দুর্দান্ত উদ্বোধন হয়ে গেল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সহ একঝাঁক বিশিষ্ট অতিথি।
তেরঙা আলোয় সাজানো বিশাল ভবনটি যেন উত্তরবঙ্গের বিচার ব্যবস্থার নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দাবি উঠেছিল অনেক দিন আগে, ১৯৬৩ সালে। পশ্চিমবঙ্গ আইনজীবী সঙ্ঘ প্রথম এই দাবি তুলেছিল। পরবর্তীকালে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি দুই শহরের আইনজীবীরা দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছেন। অবশেষে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের অনুমোদনে অস্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ চালু হয়।
“সব নেতা সব জায়গায় যান না”, মোদীর সভায় ডাক না পেয়েও মেজাজি দিলীপ
শুরুতে জেলা পরিষদের পুরনো ডাকবাংলোয় কাজ চলত। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে পূর্ণাঙ্গ বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হত। উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে বিচারের জন্য কলকাতা ছুটতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও খরচসাপেক্ষ।রাজ্য সরকার ৪০ একর জমির উপর এই স্থায়ী ভবন নির্মাণে প্রায় ৫০১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। পাঁচতলা বিশাল এই ভবনে রয়েছে প্রধান বিচারপতির এজলাসসহ মোট ১৩টি এজলাস।
প্রতিটি তলা প্রায় এক লক্ষ স্কোয়ার ফিটের। আধুনিক সুবিধায় সজ্জিত এই কমপ্লেক্সে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও কর্মীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্বোধনের আগের দিন থেকেই এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ। বৈরাতি নৃত্য, আদিবাসী নাচ, পুলিশ ব্যান্ডের মহড়া সব মিলিয়ে এক জমজমাট পরিবেশ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই স্থায়ী ভবন উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফসল।
বিচার এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়, ঘরের কাছেই পৌঁছে গেছে।” প্রধান বিচারপতির রিমোট উদ্বোধনের মাধ্যমে এই ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের মানুষের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলির বিচারপ্রার্থীরাও বড় সুবিধা পাবেন। আগে খরচের ভয়ে অনেক গরিব মানুষ হাইকোর্টে যেতেন না।
এখন দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী বিচার মিলবে।আইনজীবীদের একাংশ জানিয়েছেন, সার্কিট বেঞ্চ চালু হওয়ার পর মামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং নিষ্পত্তির হারও উন্নত হয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী পীযূষ ঘোষ বলেন, “এটা উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। স্থায়ী ভবনের সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।” তবে কিছু আইনজীবী দাবি জানিয়েছেন যে, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মামলাও এই বেঞ্চের আওতায় আনা হোক।
