
মালদা: ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো (English Bazar)সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ঘিরে এবার তীব্র বিতর্ক তৈরি হল মালদার ইংরেজবাজারে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ফর্ম ৭ জমা দিতে গিয়েও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়লেন সাধারণ নাগরিকরা এমনই অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের তরফে। ঘটনায় জেলা জুড়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার সূত্রপাত, যখন ইংরেজবাজারের ছয়জন বাসিন্দা প্রায় ১,৫০০টি ভোটার আপত্তি নিয়ে নির্বাচন আধিকারিকদের দ্বারস্থ হন। নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় ভুয়ো বা অযোগ্য নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলে সংশোধনের জন্য ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা ফর্ম পূরণ করে ইংরেজবাজারের ইআরও (Electoral Registration Officer), যিনি একই সঙ্গে এসডিও পদে রয়েছেন, তাঁর কাছে যান।
২০২৬-এর আগে ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য বাজেট, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-কন্যাশ্রীতে কি বড় ঘোষণা?
অভিযোগ, ইআরও প্রথমে ফর্মগুলি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি এই ফর্ম গ্রহণের “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ” নন এবং বাসিন্দাদের এআরও বা এয়ারো (Assistant Electoral Registration Officer), অর্থাৎ বিডিও-র কাছে যেতে বলেন। নাগরিকরা সেই নির্দেশ মেনে বিডিও অফিসে গেলে সেখানেও সমস্যার শেষ হয়নি।
এয়ারোর তরফে জানানো হয়, জেলা নির্বাচন দফতর থেকে কোনও “নির্দেশ” না আসা পর্যন্ত এতগুলি ফর্ম গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এরপর বাসিন্দাদের ফের এসডিও অফিসে ফিরে যেতে বলা হয়। এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরে শেষ পর্যন্ত ফর্ম জমা দিতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক বিভ্রান্তি নয়, বরং পরিকল্পিত গড়িমসি। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক নাগরিকের কথায়, “আমরা আইন মেনেই কাজ করছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের এমনভাবে ঘোরাচ্ছে, যেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফর্ম নিতে চাইছে না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহলও সরব হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়াই এই ধরনের টালবাহানার মূল উদ্দেশ্য। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া নাগরিকদের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের অন্দরমহলের একাংশ অবশ্য দাবি করছে, ফর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে এবং সমন্বয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সামান্য গড়িমসিও জনমনে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন সাধারণ নাগরিকরা নিয়ম মেনে এগিয়ে এসেও বাধার মুখে পড়েন, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়।
ইংরেজবাজারের এই ঘটনা নতুন করে সেই প্রশ্নই তুলে ধরেছে নাগরিকরা যদি আইন মেনে আবেদন করেও প্রশাসনিক “দায় ঠেলার খেলায়” আটকে যান, তবে গণতন্ত্র কার্যত কতটা কার্যকর থাকে? স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই ধরনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, মালদার ইংরেজবাজারে ফর্ম ৭ গ্রহণ না করার অভিযোগ শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং গণতন্ত্রের কার্যকর প্রয়োগ এই তিনটি মৌলিক বিষয়ের দিকেই একসঙ্গে আঙুল তুলছে।










