কালিম্পং: পাহাড়ের কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে উচ্চমূল্যের ফসল শিটাকে মাশরুম (Kalimpong Mushroom Farming)৷ পাহাড়ে বড় উদ্যোগ রাজ্যের, বাড়বে কৃষকদের আয়-কর্মসংস্থানের সুযোগ। দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এই বিশেষ প্রজাতির মাশরুম চাষে জোর দিচ্ছে রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দফতর। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা এবং উচ্চ দামের কারণে শিটাকে মাশরুম পাহাড়ি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বাজারে শিটাকে মাশরুমের দাম কেজি প্রতি প্রায় এক হাজার টাকা। ফলে প্রচলিত চাষের তুলনায় এই ফসল থেকে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের ‘হাই ভ্যালু ক্রপ’ চাষের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং যুবসমাজকে কৃষিকাজে উৎসাহিত করা।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিম্পং–১ ব্লকে ইতিমধ্যেই ২১ জন চাষিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের শিটাকে মাশরুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে চাষিদের জন্য এককালীন ৫০ শতাংশ ভর্তুকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিটাকে মাশরুমের চাষ পদ্ধতি সাধারণ মাশরুম চাষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই মাশরুম খড় বা ধানের ভুষিতে নয়, বরং শক্ত কাঠের গুঁড়ি বা ‘লগ’-এ জন্মায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওক গাছের কাঠ শিটাকে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। ওক কাঠের ভিতরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পুষ্টি উপাদান মাশরুমের গুণমান ও স্বাদ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। হিমালয়ের পাদদেশের ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়া এই চাষের জন্য আদর্শ হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
চাষের পদ্ধতিতে প্রথমে কাঠের লগে ড্রিল করে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট ছোট গর্ত করা হয়। এরপর সেই গর্তে মাশরুমের বীজ বা ‘স্পন’ ঢুকিয়ে মোম দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক মাস ধরে কাঠের ভিতরে মাইসেলিয়াম ছড়িয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট সময় পর লগগুলি জলে ভিজিয়ে রাখা হয় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফোর্সিং’। এর ফলেই কাঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে শিটাকে মাশরুম। একবার সঠিকভাবে প্রস্তুত করা লগ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের জন্য লাভজনক।
পাহাড়ে এর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিত পরিসরে শিটাকে চাষ শুরু হলেও এবার সরকার সরাসরি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও সংগঠিত রূপ পাচ্ছে। ‘হিলস শিটাকে মাশরুম হাব’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি সহ সমতলের বিভিন্ন বাজারে এবং নামী রেস্তোরাঁয় শুকনো বা ড্রায়েড শিটাকে মাশরুমের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে।
