বাবা-মায়ের জন্ম সংশাপত্র দিতে পারব না: সাফ কথা মমতার

Waiting Through Time, Mamata Refuses to Move Until the Symbol Appears
Waiting Through Time, Mamata Refuses to Move Until the Symbol Appears

ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে এমন নথি চাওয়া বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাবা-মায়ের জন্ম সংশাপত্র দিতে পারব না

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র চাইলে দিতে পারব না। ওনারা তো বাড়িতেই জন্মেছিলেন, হাসপাতালে নয়। মোদী-শাহের কাছে চাইলে ওরা দিতে পারবেন? ওরা ভুয়ো শংসাপত্র দেবে। আমরা ফেক বানাই না, বড়দিন আসছে, কেক বানাই।” 

   

ম্যাপিং হচ্ছে না Mamata Banerjee voter list BJP attack

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং সংশোধন প্রক্রিয়ায় গরমিল নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বহু মানুষের নাম ঠিকমতো ম্যাপিং হচ্ছে না। এর জন্য দায়ী করেন বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত সমস্যাকে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিএলও-রা অনেকেই সাঁওতালি, রাজবংশী, কামতাপুরী ভাষা জানেন না। রাজ্যে একাধিক ভাষা আছে। ফলে বিএলও অ্যাপে অনেক ভোটারের ম্যাপিংই হয়নি।”

একই সঙ্গে তিনি সিপিএম এবং বিজেপি—দু’দলের বিরুদ্ধেই কড়া অভিযোগ তোলেন। মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০২ সালে সিপিএম ক্ষমতায় থাকাকালীন ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, “সিপিএম ছিল মার্কামারা দল। তখন নবপ্রজন্ম থেকে শুরু করে যাঁরা তৃণমূল করত, বেশিরভাগের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ বুঝছে কী ভয়ংকর ভুল করেছিল।”

ভুলের মাশুল দিচ্ছে সিপিএম

মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, সেই ভুলের মাশুল সিপিএমকে আজও দিতে হচ্ছে। “মানুষ ক্ষমা করেনি, করবেও না,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিপিএম বিজেপির “দালালি” করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকা এবং নথি সংক্রান্ত প্রশ্নে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। ভোটাধিকার রক্ষা ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তীব্র ভাষা—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন