
কলকাতা: শীতের কামড় এই মুহূর্তে বাংলাজুড়ে (vegetable)। বছরের শীতলতম দিনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যেমন প্রভাব পড়েছে, তেমনই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে সবজির বাজার কেমন আছে? কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর কোল্ড ডে কন্ডিশনের মধ্যেই আজ শহর ও গ্রাম মিলিয়ে বাজারে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ঠান্ডার প্রভাব পড়েছে জোগান ও পরিবহণে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কিছু সবজির দামে।
আজকের বাজারদরে দেখা যাচ্ছে, টমেটোর দাম এখনও যথেষ্ট অস্থির। কোথাও ৩৫ টাকায় মিললেও ভালো মানের টমেটোর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত উঠেছে। বিক্রেতাদের দাবি, ঠান্ডার কারণে উৎপাদন কমেছে এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে পরিবহণ ব্যাহত হওয়াতেই এই দামের তারতম্য।
সাঁতরে অনুপ্রবেশ, প্রবল শীতে আটক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু
আলুর বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। আজ আলুর দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৩২ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। নতুন আলুর জোগান বাড়ায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও বড় কোনও ধাক্কা নেই, যদিও দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ৪১ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শীতের সবজি হিসেবে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাহিদা বরাবরের মতোই বেশি। ফুলকপির দাম প্রতি পিস ২৬ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আকার ও মানের উপর দাম নির্ভর করছে। বাঁধাকপি তুলনামূলক সস্তা কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৪ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তির খবর।
বেগুনের বাজারে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য। ছোট ও মাঝারি মানের বেগুন ৫০ টাকার আশেপাশে মিললেও, ভালো মানের লম্বা বেগুনের দাম কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঢেঁড়শের ক্ষেত্রেও একই ছবি ৩৫ টাকা থেকে শুরু করে ভালো মানের ঢেঁড়শ ৭৫-৭৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শীতের মরশুমে গাজরের চাহিদা ব্যাপক। আজ গাজরের দাম কেজি প্রতি ৬৫ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১১৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পাহাড়ি এলাকা ও উত্তরবঙ্গ থেকে আসা গাজরের জোগান কম হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।
কাঁচা লঙ্কার দাম অবশ্য তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। শসার দামও খুব একটা বাড়েনি। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩১ টাকায় শসা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঠান্ডার কারণে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম, কারণ এই সময়ে মানুষ গরম খাবারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
সব মিলিয়ে, বছরের শীতলতম দিনে সবজির বাজার পুরোপুরি আগুন না হলেও কিছু কিছু সবজিতে দামের ঝাঁজ স্পষ্ট। বিক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং পরিবহণ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে কিছু সবজির দাম কমতে পারে। তবে আপাতত ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার সামলাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।








