
কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (TMC plea) তল্লাশি কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা আবেদন খারিজ হয়ে গেল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আজকের শুনানিতে ইডির (Enforcement Directorate) আইনজীবী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় ইডি কোনো তথ্য বা ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেনি। সবকিছু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে গেছেন।
ফলে তৃণমূলের আবেদন ধোপে টিকল না এবং আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।এই ঘটনা শুরু হয় গত ৮ জানুয়ারি। ইডি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং তদন্তে আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস ও প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি তৃণমূলের গোপন নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী তালিকা ও সংগঠনের ডেটা চুরি করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূলের ডুগডুগি বাজাতে দুর্গাপুরে দিলীপ ঘোষ
মমতা বলেন, এটা বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে দুর্বল করার চক্রান্ত। তিনি দাবি করেন, দলের নথি ও হার্ড ডিস্ক নিয়ে এসেছেন নিরাপত্তার জন্য।ইডির পালটা অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ তদন্তে বাধা দিয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জৈনের বাড়িতে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে যান।
ইডি হাইকোর্টে মামলা করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানায় এবং নথি ফেরতের আর্জি করে। তৃণমূলও পালটা মামলা করে, দাবি করে যে ইডি দলের গোপন ডেটা চুরি করেছে এবং তা বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।আজকের শুনানিতে ইডির অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু বলেন, “সার্চ সাইটে কোনো সিজার হয়নি। নথিতে স্পষ্ট লেখা আছে কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।
সবকিছু মুখ্যমন্ত্রীর লোকজন নিয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের আবেদন অরক্ষণীয়, কারণ তৃণমূল সার্চ সাইটের সঙ্গে যুক্ত নয়। আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক থাকলেও, তল্লাশি ছিল আইপ্যাকের জায়গায়। তাই তৃণমূলের প্রার্থনা অস্বীকারযোগ্য।বিচারপতি ঘোষ এই যুক্তি গ্রহণ করে তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ইডির মামলা মুলতুবি রাখা হয়েছে, কারণ ইডি সুপ্রিম কোর্টে একই বিষয়ে আবেদন করেছে। আদালত বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর এখানে শুনানি হবে।










