
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি এক বিতর্কিত ঘটনায় তীব্র মন্তব্য করেছেন। তিনি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনের গাড়িতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি এটিকে শুধু প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশের উপস্থিতিতেও এই হামলা নির্বাচন কমিশনের অফিসের ওপর করা হয়েছে, যা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। তাঁরা আর্টিকেল ৩২৪ পড়া উচিত।”
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী পুলিশের উপস্থিতিতেও যদি নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে চায়, তা শুধুমাত্র আইনগত অপরাধ নয়, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর হামলাও বটে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পরিচালনা, ভোট গণনা ও ভোটার তালিকা সংরক্ষণের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। এই ক্ষমতার প্রতি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন পরিচালনা করা, ভোট গণনা করা – এগুলো সবই নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা।” এই বক্তব্যে সুবেন্দু জোর দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধিকার এবং সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতাকে মান্য করা প্রতিটি নাগরিকের ও প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিষয়টি সম্মান করতে হবে। এর বাইরে যেকোনো হস্তক্ষেপ সংবিধান লঙ্ঘনের সমান।
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিকভাবে বলিষ্ঠ বার্তা দিয়ে বলেছেন, যে কোনো ধরনের হামলা বা হুমকি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত করবে। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য(Suvendu Adhikari) বা ক্ষমতার অপব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। “এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়,” তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সুবেন্দু একদিকে প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বের ওপর প্রশ্ন তোলেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ববোধের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেছেন, “পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই হামলা করা হয়েছে। এটি আমাদের দেশের সংবিধানের প্রতি অবমাননার চরম উদাহরণ।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা রক্ষা ও সংবিধান সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধিকার ও সংবিধান রক্ষা শুধু প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বও। যে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা হুমকি শুধু সংবিধান নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর এই ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, “তাঁরা আর্টিকেল ৩২৪ পড়া উচিত।” আর্টিকেল ৩২৪-এ নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। এটি নিশ্চিত করে যে ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অবাধ হয়।









