
কলকাতা: আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি তল্লাশি কাণ্ড নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্রের সংঘাত এখন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)দরবারে। আগামীকাল ১৫ জানুয়ারি শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে আর্টিকেল ৩২-এর অধীনে পিটিশন দায়ের করেছে। ইডির দাবি, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ তদন্তে বাধা দিয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করেছে।
তার সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইস-নথি জোর করে নিয়ে গেছে।ইডির পিটিশনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০-এরও বেশি পুলিশ নিয়ে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে ল্যাপটপ, মোবাইল ও নথি নিয়ে চলে যান। এতে তদন্তের অখণ্ডতা নষ্ট হয়েছে। ইডি সিবিআই-এর তত্ত্বাবধানে এফআইআর দায়ের ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ও অন্যান্যদের নাম রয়েছে।
‘সব নথি নিয়ে গিয়েছেন মমতা ও তৃণমূল’! আই-প্যাক মামলায় হাইকোর্টে বিস্ফোরক ইডি
ইডি বলেছে, এটা একক ঘটনা নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যাটার্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং রাজ্য পুলিশকে অপব্যবহার করা।এই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টে দু’পক্ষের মামলা চলছে। ইডি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে, আর তৃণমূল ও আইপ্যাকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ইডি দলের গোপন নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী তালিকা ও সংগঠনের ডেটা চুরি করার চেষ্টা করেছে।
গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান, মামলা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি হয়। আজ (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টে ইডি তিনদিনের সময় চেয়েছে, কারণ একই বিষয় সুপ্রিম কোর্টে পেন্ডিং। ইডির আইনজীবী বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা থাকলে হাইকোর্ট শুনানি করতে পারে না।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছেন। ইডির তরফে দাবি রাজ্য সরকার আগেভাগে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছে, যাতে একতরফা আদেশ না হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটা বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে দুর্বল করার চক্রান্ত। তিনি বলেছেন, দলের নথি ও হার্ড ডিস্ক নিরাপত্তার জন্য নিয়ে এসেছেন।










