শতদ্রুর গ্রেফতার নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস তরুণজ্যোতির

কলকাতা: যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গতকালই গ্রেফতার করা হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Shatadru Dutta arrest)। এই ইস্যুতেই এবার মুখ খুললেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।…

shatadru-dutta-arrest-controversy-tarunjyoti-tiwari

কলকাতা: যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গতকালই গ্রেফতার করা হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Shatadru Dutta arrest)। এই ইস্যুতেই এবার মুখ খুললেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি অনুযায়ী, শোনা যাচ্ছে শতদ্রু দত্ত নাকি গ্রেফতারের পর থেকেই পুলিশি হেফাজতে ছিলেন।

Advertisements

কিন্তু রবিবার যখন তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়, তখন প্রকাশ্যে যে ভিডিও ও ছবি সামনে এসেছে, তাতে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। বিজেপি নেতার বক্তব্য, “যদি সত্যিই শতদ্রু গতকাল রাত থেকে পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে আদালতে পেশের সময় তাঁর কোমরে ব্যাগ এল কোথা থেকে?”

   

তিনি আইনের দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাধারণত পুলিশ সিজ করে নেয়। এটা শুধুমাত্র নিয়মের খাতিরে নয়, অভিযুক্তের নিরাপত্তা এবং হেফাজতের স্বচ্ছতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। “পুলিশ আইন জানে না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়,” বলেন তরুণজ্যোতি। তাঁর প্রশ্ন, “পুলিশি হেফাজতে থাকা একজন অভিযুক্তের কাছে ব্যাগ থাকা কীভাবে সম্ভব?”

এই প্রশ্ন থেকেই বিজেপি নেতা আরও এক ধাপ এগিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “তাহলে কি সত্যিই শতদ্রু গতকাল রাতে পুলিশ লকআপে ছিলেন? নাকি বাইপাসের ধারে কোনও পাঁচতারা হোটেলে নিশ্চিন্তে রাত কাটিয়েছেন?” যদিও তিনি সরাসরি কোনও প্রমাণ দেননি, তবে এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তরুণজ্যোতি তিওয়ারির আরও দাবি, যদি পুলিশ ও প্রশাসন তাদের বক্তব্যে অনড় থাকে যে শতদ্রু দত্ত পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন, তাহলে তার প্রমাণ দেওয়া হোক। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বিধাননগর থানার লকআপে CCTV রয়েছে এটা সবাই জানে। যদি শতদ্রু সত্যিই সেখানে ছিলেন, তাহলে সেই CCTV ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। ভিডিও দেখালেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।”

এই দাবির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওই CCTV ফুটেজ কি জনসমক্ষে আনা হবে? নাকি ‘পুলিশি হেফাজত’ কথাটা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে? বিজেপির দাবি, পুরো বিষয়টি একটি ‘ভিজুয়াল ম্যানেজমেন্ট’-এর অংশ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রশ্ন সামাল দিতেই তড়িঘড়ি গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়। তরুণজ্যোতির বক্তব্য, “জনগণ প্রশ্ন করছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এটা প্রমাণ করার সময় এখন।”

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত বিধাননগর পুলিশ বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, গ্রেফতার ও হেফাজতের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছে। যদিও CCTV ফুটেজ প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেসি-ইভেন্টের বিশৃঙ্খলা এখন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং তা ক্রমশ রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। একদিকে শাসকদল যেখানে তদন্ত কমিশন গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে সরকার ও পুলিশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

সব মিলিয়ে, শতদ্রু দত্তের গ্রেফতার ঘিরে ওঠা এই নতুন বিতর্ক রাজ্যের প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য এক বড় পরীক্ষা। CCTV ফুটেজ প্রকাশ পেলে যেমন অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে, তেমনই তা না হলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হবে। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকেই।

Advertisements