
শান্তিপুর: নদিয়া জেলার শান্তিপুরে এক নৃশংস ঘটনায় (Shantipur idol)চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় কুমোরপল্লীর প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের ওয়ার্কশপের বাইরে রাখা প্রায় ৫০-৬০টি কালী এবং সরস্বতী দেবীর মাটির মূর্তি ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে, ঠিক লোকনাথ মন্দিরের কাছে অবস্থিত ওয়ার্কশপে। মূর্তিগুলো আসন্ন সরস্বতী পূজা এবং কালীপূজার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল, যা শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের অংশ।
এই তান্ডব কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত নয়, বরং স্থানীয় কারিগরদের জীবিকার ওপরও গভীর ক্ষতি করেছে।শান্তিপুর ভারতের অন্যতম প্রাচীন তাঁত এবং মৃৎশিল্পের কেন্দ্র। এখানকার কুমোরপল্লীতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কারিগররা দেবী-দেবতার মূর্তি তৈরি করে আসছেন। জয়ন্ত দাসের মতো শিল্পীরা বছরভর কঠোর পরিশ্রম করে এই মূর্তিগুলো গড়ে তোলেন। সরস্বতী পূজা এবং কালীপূজার মরশুমে এগুলোর চাহিদা থাকে সারা রাজ্যজুড়ে।
পহেলগাঁও হামলায় হামাস যোগ ঘিরে বাড়ল রহস্য
কিন্তু সকালবেলা যখন কারিগররা কাজে আসেন, তখন দেখেন মূর্তিগুলোর মাথা, হাত-পা ভেঙে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কালী দেবীর প্রচণ্ড মূর্তি থেকে শুরু করে সরস্বতীর শান্ত, জ্ঞানদায়িনী রূপ সবই ধ্বংস করা হয়েছে। জয়ন্ত দাসের চোখে জল তিনি বলেছেন, “এত পরিশ্রম করে মূর্তি গড়ি, যাতে মানুষ পূজা করতে পারে। কিন্তু কারা এমন করল? এ তো শুধু মূর্তি ভাঙা নয়, আমাদের বিশ্বাস আর জীবিকা ভাঙা।”
এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, ঘটনাটি ঘটেছে ভোররাতে বা সকালের দিকে। লোকনাথ মন্দিরের কাছে হওয়ায় এটি আরও স্পর্শকাতর। মন্দিরটি শান্তিপুরের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ, যেখানে লোকনাথ বাবার ভক্তরা নিয়মিত আসেন। দুর্বৃত্তরা কোনো চিহ্ন রাখেনি, কিন্তু এটি স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এটাকে সরাসরি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর হামলা বলে মনে করছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা কোনো সাধারণ চুরি বা দুর্ঘটনা নয়। মূর্তিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।”ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদে নামেন। তারা অভিযোগ করেন যে এটি মৌলবাদী শক্তির কাজ, যারা হিন্দু উৎসবের আগে এমন তান্ডব চালিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়।
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিককালে এমন মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে সরস্বতী মূর্তি ভাঙা থেকে শুরু করে অন্যান্য জেলায়। শান্তিপুরের এই ঘটনা যেন সেই ধারাবাহিকতার অংশ। বিজেপি নেতারা বলছেন, রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এমন ঘটনা বাড়ছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং কারিগরদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
শান্তিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজ চলছে। কিন্তু এলাকাবাসীরা বলছেন, এমন ঘটনায় দ্রুত বিচার না হলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। জয়ন্ত দাসের মতো কারিগররা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই মূর্তি বিক্রির ওপর। লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা পূরণ করা কঠিন।









