কলকাতা: সম্প্রতি গায়িকা লগ্নজিতার হেনস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল ঘোলা (Pallab Kirtania show cancelled)। এবার লগ্নজিতার পর অনুষ্ঠান বাতিল হল বাংলার আরও এক গুণী শিল্পী পল্লব কীর্তনীয়ার। বর্ধমানের ভাতারে তার একটি অনুষ্ঠান ছিল কিন্তু অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূলের চাপে তাকে সেই অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে একটি বইমেলা হচ্ছে। এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসছেন শিল্পীরা।এই বইমেলা এবং উৎসবে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পল্লব কীর্তনিয়ার একটি গানের অনুষ্ঠান ছিল আগামী ২৫ শে ডিসেম্বর। গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে শিল্পী জানিয়েছিলেন, শাসকের প্রবল চাপে শেষ মুহূর্তে তার অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। জনৈক গায়ক তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন গত ১০ বছরে এই ধরণের ঘটনা তার সঙ্গে একাধিক বার ঘটেছে। অনুষ্ঠানে তাকে ডেকেও শেষ পর্যন্ত শাসক দলের চাপে তাকে বাদ দিয়েছে আয়োজকরা।
সুরেন্দ্র গুপ্তার নেতৃত্বে দিল্লিতে দীপু দাসের হত্যার নিন্দায় বিক্ষোভ
শিল্পী আরও বলেছেন যে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি একটি স্বতন্ত্র একটি জায়গায় রয়েছেন। তার দাবি মোটামুটি সবাই শাসক দলের সমর্থনে আছেন বলে তারা নিয়মিত অনুষ্ঠান পান। কিন্তু তিনি সরকারের তথাকথিত সমর্থক নন বলেই বার বার তাকে অনুষ্ঠান থেকে ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন “যে কোনো সংগঠন আমাকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলে প্রবল বাধাপ্রাপ্ত হবেন। লগ্নজিতাকে যে ভাষায় অপমান করা হয়েছে তার চেয়ে ঢের ঢের তিন অক্ষর চার অক্ষরের গালাগালি শুনেছি এমনকি এই খোদ কলকাতার রবীন্দ্রসদন মঞ্চে। শারীরিক নিগ্রহের হুমকি ছেড়েই দিলাম।”
স্বভাবতই এই ঘটনায় সরব হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানান, ‘এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা এখানে হবে। শিল্প সমাজের দর্পন। কিন্তু এ রাজ্যে শিল্পীরা সমাজের অনাচার তুলে ধরতে পারছেন না।
অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ তৃণমূল কংগ্রেসের শিল্পীর স্বাধীনাতায় বিশ্বাস করে। এই বাংলায় নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কী কারণে ওই অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে তা আয়োজকের জানেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে এর কোনোও যোগ নেই।’
তবে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে অন্য ছবি। ভাতার বইমেলা ও উৎসবের আয়োজক মধুসূদন কোঙার বলেন ‘ ‘ আমরা যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন পাব ভেবেছিলাম তা পাইনি। ওনার সম্মান দক্ষিণা ঠিকমতো দিতে পারব না বলেই আমরা বারণ করেছি। শাসকদলের তরফে আমাদের কোনো চাপ দেওয়া হয় নি। আয়োজকের এই মতামতেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তারা বলেছেন, আয়োজকরাও তো তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক সুতরাং তারাও যে এই অভিযোগ অস্বীকার করবে তা আগে থেকেই জানা ছিল। তারা আরো বলেছেন যে শিল্প এবং সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত আশংকার সময় আসতে চলেছে। কোথাও শিল্পীরা হেনস্থা হচ্ছেন আবার কোথাও পরিকল্পনা করে তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে এমন হলে বাংলার সংস্কৃতি ধ্বসে যাবে।
