শিক্ষাঙ্গনে হিজাব-বোরখার প্রতিবাদে মুসলিম আইনজীবী

কলকাতা: ‘শিক্ষাঙ্গন ঢেকে যাচ্ছে হিজাব-বোরখাতে’ (Osman Mallik)এমনটাই দাবি করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব বিতর্কে ইংরেজি বিভাগের প্রধানকে ক্যাম্পাসে না আসতে…

osman-mallik-hijab-burqa-protest-education

কলকাতা: ‘শিক্ষাঙ্গন ঢেকে যাচ্ছে হিজাব-বোরখাতে’ (Osman Mallik)এমনটাই দাবি করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব বিতর্কে ইংরেজি বিভাগের প্রধানকে ক্যাম্পাসে না আসতে প্রস্তাব করেছে সংখ্যালঘু কমিশন। এই প্রসঙ্গেই কলম ধরেছেন আইনজীবী ওসমান মল্লিক। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন “এইভাবেই পশ্চিমবঙ্গে অল্পদিনের মধ্যেই ইসলামীকরন সম্পন্ন হবে।

Advertisements

হিজাব বুরখাতে ইতিমধ্যেই ঢাকতে শুরু করেছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। যাদবপুরও বাকী থাকবে না। কোথায় যাবে হিন্দু বাঙালি, নাস্তিক বাঙালি, মুক্তমনা বাঙালি। পালানোর জন্য থাকবে অবশিষ্ট ভারত।” এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই তিনি তার স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন এবং বুঝিয়ে দিয়েছেন যে শিক্ষাঙ্গনের একটা নিয়ম শৃঙ্খলা রয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো সংগঠন বা কমিশন কোনো বিভাগীয় প্রধানকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না করতে পারে না। এইভাবে চলতে থাকলে পুরো শিক্ষাবাবস্থাতেই এই ধরণের কমিশন তাদের আধিপত্য কায়েম করবে।

   

লাইফ অফ পাইয়ের উদাহরণে ভারতীয় ফুটবলকে তুললেন ডেভিড জেমস

তখন মুক্তমনা বাঙালিরা পালিয়ে কুল পাবে না। হিজাব বিতর্কে ওসমান মনে করিয়ে দিয়েছেন মাথা ঢেকে পরিক্ষায় নকল করার ঘটনা। সেখানে কিন্তু সবাইকে হিজাব খুলতে বলা হয়নি। শুধুমাত্র পরীক্ষায় নকল করার সন্দেহ নিয়েই সন্দেহভাজনকে হিজাব খুলে পরীক্ষা দিতে বলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ দিয়েছেন একটি ঘটনার যেখানে এসএসসি পরীক্ষাতে হিন্দু গৃহবধূকে নোয়া খুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

সেই ঘটনাতে কি পরীক্ষক এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাকে কি কোনও কমিশন বা সংগঠন পরীক্ষাকেন্দ্রে না ঢোকার জন্য ফতোয়া জারি করেছিল। করে নি কারণ হাতের এই ধরণের নোয়া বা অন্য কোনও ধাতব জিনিস নিয়ে পরীক্ষা দিতে ঢোকা নিয়ম বিরুদ্ধে ছিল এবং সেখানে নিয়ম মানতেই হত। ঠিক সেরকমই যদি কোনও শিক্ষাঙ্গনে হিজাব বা ধর্মীয় পোশাক সেই শিক্ষাঙ্গনের নিয়ম বিরুদ্ধ হয় তবে তা ব্যবহার করা যাবে না এমনটাই বলেছেন ওসমান।

ঠিক এই প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়েছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা যেখানে হিজাব পরতে অস্বীকার করায় এক অধ্যাপিকাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। প্রসঙ্গত পশ্চিমা দেশের অনেকগুলিতেই এই মুহূর্তে শিক্ষাঙ্গনে হিজাব বা বোরখা নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে এমনটাও বলেছেন ওসমান। সুতরাং ধর্মীয় গোড়ামি এবং কট্টর পন্থার উপর ভিত্তি করে যে শিক্ষাঙ্গনগুলি চলতে পারেনা তা এই বিশিষ্ট আইনজীবী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

Advertisements