
কলকাতা: বিশ্ব ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্ক এখনও থামেনি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভয়াবহ ভাঙচুরের (Yuva Bharati vandalism case) ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। শনিবার মেসির অনুষ্ঠানের দিন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যুবভারতী স্টেডিয়াম। চেয়ার ভাঙচুর, গ্যালারিতে তাণ্ডব, এমনকি গোলপোস্ট ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় এবার আরও তিনজনকে গ্রেফতার করল বিধাননগর পুলিশ। ফলে যুবভারতী ভাঙচুর মামলায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯-এ।
বিধাননগর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্টেডিয়ামের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই নতুন করে তিন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। ধৃতদের নাম রাজু দাস ওরফে গোপাল দাস, সৌম্যদীপ দাস ওরফে পাপ্পু এবং তন্ময় দে ওরফে দুষ্টু। লেকটাউন ও নাগেরবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, যুবভারতীর ভিতরে সরাসরি ভাঙচুরে এই তিনজনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
তদন্তকারীদের মতে, ধৃতদের জেরা করে ভাঙচুরের নেপথ্যে থাকা আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনার পর প্রথমে দু’দফায় ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বোঝা যাচ্ছে এই তাণ্ডব ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে বহু দর্শক জড়িত ছিলেন।
শুধু ভাঙচুরই নয়, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে চেয়ার, ব্যারিকেড ও অন্যান্য সামগ্রী দর্শকদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, তাণ্ডবের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সিটের হাতে এসেছে এবং সেগুলি বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিধাননগর পুলিশের পাশাপাশি সিট এই মামলার সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সিটের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তারি হতে পারে।
এদিকে শুক্রবার মেসির অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিধাননগর দক্ষিণ থানার মহিলা পুলিশ-সহ পাঁচজন আধিকারিক রিষড়া থানার সহযোগিতায় ওই তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। তিনতলা বিলাসবহুল ওই বাড়িতে সুইমিং পুল ও ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তল্লাশির সময় বাড়িতে একমাত্র পরিচারিকা ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
পুলিশ পরিচারিকার সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাড়ির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, মেসির শো আয়োজনের ক্ষেত্রে কালো টাকা ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) শীঘ্রই আলাদা করে তদন্ত শুরু করতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত শতদ্রু দত্তর কোনও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়নি।










