
বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতায় অ্যাকশন মুডে ইডি (ED RAID) আধিকারীকেরা। আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাতে এসে ইডি আধিকারিকরা সকাল থেকেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইফ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভোর ৫টায় তৃণমূলের ভোট কুশলী, আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি’র (ED RAID) অভিযান।
এই ঘটনাস্থলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন দৃশ্য কলকাতায় বিরল। অতীতে দেখা যায়নি, যে কোনো সংস্থার কর্তা বা অফিসে অভিযান চলাকালীন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবেন। এর আগে রাজীব কুমারের সময় মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসে প্রমাণ করেছিলেন যে, তাঁকে আংশিক বা রাজনৈতিক দমন মোকাবিলায় সরাসরি মাঠে দেখা যেতে পারে। তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা। ভোট কুশলী আইপ্যাকের অন্যতম কর্নধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ইডি পৌঁছানোর পরই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
প্রতীক জৈন, যিনি আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ভোট কুশলী হিসেবে পরিচিত, রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর বাড়িতে ইডি’র হানা এবং মমতার উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল আইপ্যাককে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে। ইডি’র (ED RAID) অভিযানকে ঘিরে সকাল থেকেই সল্টলেক এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশ ও আধিকারিকরা পুরো এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছিলেন। যদিও সাধারণ মানুষ তল্লাশির কারণে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, তবে রাজনৈতিক মহলে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট কুশলী আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের প্রতি সমর্থন এবং দলের সক্রিয় প্রতিরক্ষা প্রমাণ করার একটি বড় রাজনৈতিক সংকেত। মমতার এই পদক্ষেপ কেবল ব্যক্তিগত সমর্থন নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দলের একতা এবং জনগণের কাছে দৃঢ় বার্তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সল্টলেকের সেক্টর ফাইফে আইপ্যাক অফিসে ইডি হানা এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি, সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি উপস্থিতি কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।










