‘রাজীব কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েও গ্রেফতার নয় মমতা!’ কাঠগড়ায় অমিত শাহ

mamata-banerjee-rajeev-kumar-case

কলকাতা: আই প্যাকের দফতরে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি (Mamata Banerjee)এবং সেখান থেকে মমতার ফাইল-হার্ড ডিস্ক নিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই আবহেই বাম নেতা এবং আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন একজন গুন্ডাকে বাংলার গদিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে সব্যসাচী বলেছেন ২০১৯ সালে ঠিক একই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন মমতা। সারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত রাজীব কুমারকে বাঁচাতে CBI কর্মকর্তাদের হেনস্থা করেছিলেন তিনি।

সেই সঙ্গে এই আবহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি এবং বলেছেন তার প্রশ্রয়েই মমতা এই গুন্ডামি করার সাহস পাচ্ছেন। তার সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন মমতাকে কেন গ্রেফতার করা হবে না তার উত্তরও দিতে হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। সম্প্রতি একটি মন্তব্যে প্রাক্তন বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর কোনো সদিচ্ছা তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে দেখতে পাননি।

   

এশিয়া কাপের করমর্দন বিতর্ক টেনে ভারতকে ‘হুঙ্কার’ আফ্রিদির

এই ইডি অভিযানের প্রেক্ষাপটে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং সব্যসাচীর মন্তব্য খানিকটা একই সুরে। যেখানে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি তুলেছে ইডির কাজে বাধা দিয়েও কেন গ্রেফতার হলেন না মমতা। সেখানে সব্যসাচীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, এবং ইডি-র অভিযোগ অনুসারে, তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি, হার্ড ডিস্ক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে যান, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ বাহিনী নিয়ে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন এবং জোর করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি নিয়ে যান।

এই ঘটনায় ইডি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে। প্রতীক জৈনের পরিবারও পাল্টা অভিযোগ করেছে ইডি-র বিরুদ্ধে। এই চাপানুতোর রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় হাওয়ালা লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে বলে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা সহ দিল্লিতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রতীক জৈন তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, এবং আই-প্যাক দলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তল্লাশির খবর ছড়াতে না ছড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি ইডি আধিকারিকদের সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নথি, প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনী কৌশল এবং আর্থিক তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন