হুমায়ূনের চ্যালেঞ্জে পাল্টা আক্রমণ তৃণমূলের পরিযায়ী সাংসদের

আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ূন কবীর (TMC’s reaction to Humayun Kabir)নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু…

Kunal Ghosh Reacts as TMC Protests ED Action at I-PAC Office

আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ূন কবীর (TMC’s reaction to Humayun Kabir)নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন তৃণমূলের পরিযায়ী সাংসদ ও বর্ষীয়ান অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্ন সিনহা। আসানসোলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, হুমায়ূনের নতুন দল গঠনের উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও প্রভাব ফেলবে না।

Advertisements

শত্রুঘ্ন সিনহার বক্তব্য, “আমি মনে করি না এতে বিশেষ কোনও পার্থক্য হবে। এর আগেও আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বাংলায় এসে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফলাফল সবাই জানেন।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ভাঙার চেষ্টা নতুন নয় এবং অতীতেও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।

   

কৌশলগত সম্পর্ক? এত লিভারেজ থাকতেও ভারত কেন নীরব?

তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। এই সংকটের সময়েও যেভাবে তিনি বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, তা মানুষ দেখছে।” শত্রুঘ্ন সিনহার কথায় বারবার উঠে আসে ‘জনগণের বিশ্বাস’ প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ সবকিছু লক্ষ্য করছে এবং সেই বিচার করেই তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করতেও এক মুহূর্ত দেরি করেননি তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। একদিকে তারা ‘বিকশিত ভারত’-এর কথা বলছে, আর অন্যদিকে বাংলার প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে শত্রুঘ্ন সিনহা ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ সামনে আনলেন, যা তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁর মতে, এই অর্থনৈতিক বঞ্চনার বিষয়টিও রাজ্যের মানুষ বুঝতে পারছে। “পাবলিক সব দেখছে। আর পাবলিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা রাখে,” এমন মন্তব্য করে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, বিরোধীদের সব অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।

হুমায়ূন কবীরের নতুন দল গঠনের ঘোষণাকে কার্যত গুরুত্বহীন বলেই তুলে ধরেন শত্রুঘ্ন সিনহা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য এবং শক্তির বার্তা দিতে চাওয়া। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা মোকাবিলার ক্ষেত্রেই এই ধরনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

শত্রুঘ্ন সিনহা আরও দাবি করেন, “এইবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের থেকেও বেশি আসনে জিতবেন। মানুষের মন ঠিক হয়ে গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে তৃণমূলের নির্বাচনী আত্মবিশ্বাস স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ূন কবীরের ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জকে পাত্তা না দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব যে আক্রমণাত্মক কৌশলেই এগোতে চাইছে, তা শত্রুঘ্ন সিনহার বক্তব্যেই পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তার দাবি এবং বিরোধীদের প্রভাবহীন বলে তুলে ধরা এই তিনটি বার্তাই একসঙ্গে পৌঁছে দিতে চেয়েছে শাসকদল। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বাংলা।

Advertisements