
কলকাতায় ইডি-র অভিযান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তা সম্প্রতি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (CV Ananda Bose) পক্ষ থেকে বেশ কিছু মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে। গত কিছু দিন ধরে, রাজ্যের রাজনীতি তুমুল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, বিশেষত আইপ্যাক অফিসে ইডি’র হানার পর। এই অভিযানের পেছনে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) এই বিষয়ে সরাসরি কিছু মন্তব্য করতে চাননি, বরং তিনি আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি চলার পক্ষে সাফ বক্তব্য রেখেছেন।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আইন তার পথে চলুক। বিষয়টি বিচারাধীন এবং আমি, রাজ্যপাল হিসেবে, আদালতের বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারি না।” রাজ্যপাল আরও বলেন, “যেহেতু বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন, তাই এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।” রাজ্যপালের এই ধরনের নীরব অবস্থান এবং আইনগতভাবে বিষয়টি বিচারাধীন বলার কারণে রাজনৈতিক মহলে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন, তখন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস(CV Ananda Bose) তার অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে একেবারে নিরপেক্ষ থাকলেন। রাজ্যপাল বলেন, “আমি শুধু এতটুকু বলব যে, যা ঘটছে, তা আমাদের চারপাশে একটি ব্যাখ্যার দাবি রাখে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যপাল যেন পরোক্ষভাবে কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে।
এছাড়াও, রাজ্যপাল ইডি’র পদক্ষেপ এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এটি আদালতের বিষয়, তাই আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” তবে, তার এই শান্তিপূর্ণ এবং আইন অনুসরণের পক্ষে মন্তব্য, রাজনীতির মঞ্চে কিছুটা হলেও আলোচনার ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যপালের এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে, কারণ তিনি কোনো একটি পক্ষের সমর্থনে দাঁড়াননি। ইডি’র অভিযান এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, ইডি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে এবং তাদের উপর কেন্দ্রের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ দাবি করছে যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনৈতিক কাজ এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ইডি তদন্ত চালাচ্ছে।










