
কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। I-PAC অফিসে হঠাৎ করা ED-এর অভিযান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতা পুরো রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে, কয়লা কাণ্ডের পুরনো মামলার জের ধরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার সল্টলেক অফিসে উপস্থিত হয়।
এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মমতার কথায়, আমাদের প্রার্থিতালিকা, নির্বাচনী কৌশল, দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য হাতানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” কিন্তু মমতা শুধু অভিযোগ তোলাই করেননি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ED-এর ফরেনসিক টিম আসার পর পুরো অফিসে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ল্যাপটপ, আইফোন এবং পার্টির যাবতীয় নথি ট্রান্সফার করা হয়েছে। মমতার ভাষায়, “আমাদের পার্টির সব ডেটা, ল্যাপটপ, আইফোন, পার্টির যাবতীয় তথ্য এমনকি এসআইআর সংক্রান্ত নথি সব ফরেন্সিক টিম নিয়ে এসে ট্রান্সফার করেছে। সব টেবিল ফাঁকা।”
মমতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সংস্থার অফিসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য বিনষ্ট হয়নি, বরং সবকিছু নিরাপদভাবে ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। মমতা এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আমাদের কৌশল বা তথ্য চুরির চেষ্টা করছে। আমরা নিশ্চিত করেছি, কোনো কিছু হারায়নি এবং সবকিছু সুরক্ষিত।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে মমতা বলেন, “আমরা সব তথ্য নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফরেনসিক টিম এসে সব কিছু ট্রান্সফার করেছে। তাই রাজনৈতিক কৌশল বা দলের অভ্যন্তরীণ নথি কোনোভাবেই ঝুঁকির মধ্যে নেই।” মমতার এই বক্তব্য দলের মধ্যে শান্তি ও স্বচ্ছতার বার্তা দিচ্ছে।










