
কলকাতা: আইপ্যাক তল্লাশি কাণ্ডকে (ED)কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত ক্রমশই জটিল আকার নিচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক ও আইনি মহল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও তৃণমূল কংগ্রেস দু’পক্ষের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে ইডির আইনজীবীরা সময় চাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুনানি শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইডির পক্ষ থেকে মামলার শুনানি মুলতুবি রাখার আবেদন করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাঁর দাবি, “ইডির আইনজীবীরা নিজেরাই সময় চেয়েছেন, কারণ বিষয়টি শীর্ষ আদালতে রয়েছে।” কল্যাণের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অবস্থান থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে ইডি এই মুহূর্তে চাপের মুখে রয়েছে।
হামিদের পর লাল-হলুদ ছাড়ছেন এই তারকা বিদেশি? আভাস সোশ্যাল মিডিয়ায়
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, তিনি আদালতে স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে হাজির হয়েছেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়। এই পার্থক্যটি আইনি দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তৃণমূলের বক্তব্য, ইডি যেভাবে মামলাটিকে রাজনৈতিক রঙ দিতে চাইছে, এই ব্যাখ্যা তার জবাব।
শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে (SLP) কার্যত হাইকোর্টের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “এই এসএলপিতে আদালতের বিরুদ্ধেই দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।” এই মন্তব্যের পর আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল কংগ্রেস এই মামলার শুনানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল এবং তারা চেয়েছিল শুনানি অবিলম্বে হোক। “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা মামলায় অংশ নিতে প্রস্তুত। শুনানি হোক,” এই বক্তব্য আদালতের নথিভুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেষ পর্যন্ত আদালত জানায়, যেহেতু ইডি নিজেই এই যুক্তিতে সময় চেয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি বিচারাধীন, এবং অপর পক্ষ শুনানিতে অংশ নিতে প্রস্তুত তাই শীর্ষ আদালতে এসএলপির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি মুলতুবি রাখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইডি কি তাহলে কৌশলগতভাবে পিছিয়ে এল?
তৃণমূল শিবিরের দাবি, গোটা ঘটনাপ্রবাহে ইডির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। একদিকে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে হাইকোর্টে এসে সময় চাওয়া এই দ্বৈত অবস্থান ইডির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকায় আইনি সতর্কতার কারণেই এই পদক্ষেপ।
আইপ্যাক কাণ্ডে এই মুহূর্তে বল এখন শীর্ষ আদালতের কোর্টেই। সুপ্রিম কোর্টের রায়ই ঠিক করবে, ইডির অভিযোগ কতটা টেকসই এবং রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে। তবে আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের এই শুনানি এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজনীতির ময়দানে তৃণমূলকে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক জায়গায় এনে দিয়েছে এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।









