
মাধ্যমিকের সিজন, ছাত্রছাত্রীরা এখন জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। তাই তাদের মধ্যে এক ধরণের চাপা উত্তেজনা ও টেনশন থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করার জন্য এবং পরীক্ষার্থীদের উত্সাহিত করার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও হাজির হলেন স্কুলে। মঙ্গলবার দুপুরে, বিধানসভায় যাওয়ার পথে তিনি ভবানীপুরের একটি নামী স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হন।
এ সময় স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল, তবে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিভাবকরা। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণ কথা বলেন। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের উদ্বেগ ও অনুভূতিগুলি শোনেন। স্কুল কর্তৃপক্ষও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। স্কুলের প্রিন্সিপাল তাকে স্বাগত জানান এবং সেসময় স্কুলের সংস্কারের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী প্রিন্সিপালকে বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষার পরে স্কুলের সংস্কারের জন্য একটি কাজের তালিকা তৈরি করে আমার কাছে পাঠান। আমি তা দেখে ব্যবস্থা নেব।” এটা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্কুলের উন্নতির জন্য নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি। বিশেষভাবে এই বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য প্রাথমিক দিক থেকে কাজের পরিকল্পনা করা হবে।
এদিকে, পরীক্ষা শেষে যখন ছাত্রছাত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীকে দেখলেন, তখন তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্যণীয় ছিল। অনেকেই প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। তাদের এই সদয় অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এমন একটি পরিদর্শন ছাত্রছাত্রীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য সাহায্যকারী হতে পারে, এমনটাই মনে করেন শিক্ষকরাও।
প্রতিবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুলগুলিতে পরিদর্শনে যান। তবে এইবার তিনি ভবানীপুরের স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন কিছুটা সময় কাটান এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে, তিনি অন্যান্য স্কুলগুলিতেও পরিদর্শন করেছেন, যেখানে পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
এবারের পরিদর্শনে তার আন্তরিকতা এবং শিক্ষকদের প্রতি সমর্থন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিবেশের জন্য স্কুলগুলির সংস্কার এবং মেরামতির বিষয়টি তার নজরে থাকবে।
দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির সংস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ মুগ্ধ করেছে অনেককে। শিক্ষকরা তার এই আন্তরিকতা দেখে অবাক হয়েছেন। তাদের কাছে এটা ছিল শুধু সরকারের সদিচ্ছা নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।










