
কলকাতা: কলকাতার সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তাল পরিস্থিতি (ASHA workers)। হাজার হাজার আশা কর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। তাঁদের মূল দাবি ভাতা নয়, নিয়মিত বেতন চাই। ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা মাসিক বেতন, এককালীন ১৫,০০০ টাকা বেতন, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং নিয়মিত ইনসেনটিভ।
বিক্ষোভের চাপে স্বাস্থ্য ভবনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ভিতরে প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা। প্রশাসনের তরফে মাত্র চারজন প্রতিনিধিকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আশা কর্মীরা হেলথ সেক্রেটারির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার দাবিতে অনড়।আশা কর্মীরা রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। গর্ভবতী মায়েদের খোঁজখবর, শিশু টিকাকরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে শুরু করে পুষ্টি প্রকল্প সবকিছুতেই তাঁদের অবদান অপরিসীম।
মালদহে বিএলওর অকাল মৃত্যু, কাজের চাপই দায়ী, অভিযোগ স্বামী-পরিবারের
করোনা মহামারীর সময় ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু আজ তাঁরাই অবহেলিত। বর্তমানে তাঁরা মাসে মাত্র ৫,২০০ টাকার মতো ভাতা পান, যা ইনসেনটিভের ওপর নির্ভরশীল। কোনো নির্দিষ্ট ছুটি নেই, পিএফ বা ইএসআই-এর সুবিধা নেই। এক আশা কর্মী বললেন, “আমরা স্বেচ্ছাসেবী নই, পুরোদস্তুর কর্মী। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, এই টাকায় সংসার চলে না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, ওষুধ সবই কষ্টে। আমরা মর্যাদা চাই, নিয়মিত বেতন চাই।”
বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আশা কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ আশা হেলথ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে এই আন্দোলন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকারের তরফে কোনো সদর্থক সাড়া মেলেনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জেলায় জেলায় কর্মবিরতি, পথ অবরোধ হয়েছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার সরাসরি স্বাস্থ্য ভবনে এসে চাপ সৃষ্টি করতে চান তাঁরা। এক প্রতিনিধি বলেন, “হেলথ সেক্রেটারি এন এস নিগমের সঙ্গে দেখা করতে চাই।
আমাদের কথা শুনতে হবে। চারজনের বেশি ঢুকতে না দেওয়া মানে দাবি এড়িয়ে যাওয়া।”পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ভবনের সামনে। ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আশা কর্মীরা অনড়। স্লোগানে মুখরিত ‘ভাতা নয়, বেতন চাই’, ‘১৫ হাজার টাকা বেতন দাও’, ‘মৃত্যুতে ৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণ চাই’। কেউ কেউ প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যের সৈনিক, অবহেলা বন্ধ করো’। এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে দাবি না মানলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতৃত্ব।





