যুবভারতী-কাণ্ডে হাই কোর্টে মামলা, ED–CBI তদন্ত, টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি

Kolkata High Court Messi Event

লিওনেল মেসিকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এবার পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার ওই ঘটনা সংক্রান্ত তিনটি পৃথক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেন—সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।

মামলাগুলিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED ও CBI-কে দিয়ে তদন্ত করানোর আবেদন, দর্শকদের কাটা টিকিটের টাকা ফেরত, এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ফলে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের আর্জি জানানো হয়েছে।

   

এই তিনটি জনস্বার্থ মামলার একটিতে আবেদনকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্য দুটি মামলায় আবেদন করেছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ও মৈনাক ঘোষাল। তাঁদের অভিযোগ, একটি আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানে এমন অব্যবস্থা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এর সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রাজ্যের তদন্ত কমিটি নিয়ে আপত্তি

আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে রাজ্য সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির আইনি বৈধতা ও এক্তিয়ার সীমিত, ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে মৈনাক ঘোষালের আবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হোক। সেই সঙ্গে দর্শকদের কাছ থেকে নেওয়া টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত, সম্ভাব্য আর্থিক দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা, এবং যুবভারতীতে ভাঙচুরের পরিকাঠামো সংস্কারের সম্পূর্ণ ব্যয় আয়োজকদের বহনের নির্দেশ—এই সব দাবিও তোলা হয়েছে।

কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় Kolkata High Court Messi Event

উল্লেখ্য, GOAT India Tour-এর প্রথম দিনেই কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু দর্শক অভিযোগ করেন, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও মাঠে উপস্থিত মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ছড়ায় গ্যালারিতে।

এরপর উত্তেজিত দর্শকদের একাংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্টেডিয়ামের একাধিক জায়গায় ভাঙচুর, শামিয়ানায় আগুন লাগা, আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশও করেন। তবে বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে প্রকৃত দায় নির্ধারণ সম্ভব হবে না।

এখন এই মামলাগুলির শুনানির মাধ্যমে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহল—দু’পক্ষই।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন