
কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের গভীরে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক (India Bangladesh maritime border)জলসীমান্তের কাছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ডুবে গেল পশ্চিমবঙ্গের কাকদ্বীপের একটি মৎস্য ট্রলার। এফবি পারমিতা-১০ বা পারমিতা-১১ নামের ওই ট্রলারে ১৬ জন মৎস্যজীবী ছিলেন।
১৫ ডিসেম্বর সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচজন। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশি একটি পেট্রোল জাহাজ লাইট নিভিয়ে তাদের ট্রলারে ধাক্কা মারে, যার ফলে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এমনকি একজন মৎস্যজীবীকে বল্লমের মতো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আইএসপিআর এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনাটি ভারতীয় জলসীমায় ঘটেছে এবং তাদের কোনও জাহাজের সঙ্গে এর যোগ নেই। এই ঘটনা দু’দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, সঙ্গে মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ ডিসেম্বর, যখন নামখানা ঘাট থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরোয় এফবি পারমিতা। ট্রলারে থাকা ১৬ জন মৎস্যজীবী সবাই দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপ, নামখানা অঞ্চলের বাসিন্দা। সোমবার ভোররাতে, ঘন কুয়াশার মধ্যে হঠাৎই একটি বড় জাহাজ তাদের ট্রলারে ধাক্কা মারে। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীরা জানান, জাহাজটির লাইট ছিল নিভে যাওয়া, এবং ধাক্কা মারার পর সেটি উদ্ধারকাজ না করে চলে যায়।
একজন মৎস্যজীবী রাজদুল আলি শেখকে বল্লমের মতো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি জলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। অন্য একজন রাখাল দাসও আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। বাকি নিখোঁজরা হলেন আরও তিনজন, যাদের দেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। পরে অন্য একটি ভারতীয় ট্রলার আইএফবি রঘুপতি ১১ জনকে উদ্ধার করে। ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড তৎপর হয়ে উদ্ধার অভিযান চালায় এবং এখনও তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক শুরু হয়। ভারতীয় মিডিয়া এবং মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি অভিযোগ করে যে, বাংলাদেশি নৌবাহিনী বা কোস্ট গার্ডের জাহাজ ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে এই ‘হামলা’ চালিয়েছে। সুন্দরবন মেরিন ফিশারমেন্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, “এটা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের বয়ানকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানাব।” পশ্চিমবঙ্গ ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, ঘন কুয়াশা থাকলেও এমন ধাক্কা এড়ানো যেত। তিনি বলেন, “যদি বাংলাদেশি জাহাজ আমাদের জলসীমায় ঢোকে, তাহলে এটা গুরুতর লঙ্ঘন।




