পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal Politics) নতুন আলোড়নের ইঙ্গিত। সাসপেন্ডেড তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজ, সোমবার নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন। তার আগের দিন, রবিবার তিনি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি- উভয়ের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে একজোট হয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার আহ্বান জানান।
রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সব শক্তিকে নিয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠন করাই তাঁর লক্ষ্য। তবে কেউ যদি নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবতে গিয়ে জোটে আসতে না চান, সেক্ষেত্রে তাঁর দল এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে বলেও তিনি জানান। প্রয়োজনে রাজ্যের সব ২৯৪টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, এমন দাবিও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত ভারতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক এবং বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডেড। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থানের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন দল গঠনের ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রসঙ্গে কবীর জানান, সংখ্যালঘু ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয় পেলে নতুন সরকার গঠনে তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবেচিন্তে নেওয়া জরুরি।
নতুন দলের প্রতীক নিয়েও প্রাথমিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, তাঁর প্রথম পছন্দ ‘টেবিল’ প্রতীক, দ্বিতীয় পছন্দ ‘যমজ গোলাপ’। এই দুটি প্রতীক না পেলে তৃতীয় বিকল্প ভাবা হবে। যদিও দলের নাম এখনও প্রকাশ করেননি তিনি, তবে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—নতুন দলের নামে ‘কংগ্রেস’ বা ‘তৃণমূল’ শব্দ থাকবে না।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির পুনর্গঠনের প্রশ্নে এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নতুন দলের কাঠামো, সমর্থন ও জোট গঠনের বাস্তবতার উপর। সোমবার দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
