তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা I-PAC প্রধানের বাড়ি ও দফতরে ইডি হানা, অস্বস্তিতে শাসকদল

ED Seeks High Court Intervention Over Alleged File Snatching During Search
ED Seeks High Court Intervention Over Alleged File Snatching During Search

কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ফের ইডি-ঝড়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের দফতরের পাশাপাশি মধ্য কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের আবাসনেও একযোগে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে।

কোন সূত্রে অভিযান?

ইডি সূত্রে খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। সেই মামলার তদন্তে নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে দিল্লি থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল কলকাতায় এসেছে। একই সঙ্গে দফতর ও ব্যক্তিগত বাসভবনে তল্লাশি চালানোয় অভিযানের গুরুত্ব ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা আরও বেড়েছে।

   

যদিও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই মামলায় কোনও গ্রেফতার বা আটক সংক্রান্ত তথ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত চলছে বলেই জানাচ্ছে ইডি।

 রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে জোর জল্পনা ED raid I-PAC office Kolkata

এই অভিযানের খবরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য প্রশাসনের অন্দরমহলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত। একাধিকবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণ, জনসংযোগ কৌশল এবং রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণে শাসকদল ও প্রশাসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে আইপ্যাক।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আইপ্যাকের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের সঙ্গেও সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানা যায়। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে কোন প্রার্থী থাকবেন বা বাদ পড়বেন, এই পুরো বাছাই প্রক্রিয়াতেও আইপ্যাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

রাজনৈতিক অভিঘাত গভীর

আপাতদৃষ্টিতে এই অভিযান একটি পুরনো দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত হলেও, তার রাজনৈতিক অভিঘাত যে অনেক গভীর, তা মানছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বাড়তি ‘অক্সিজেন’ পেতে পারে বলেও মত রাজনৈতিক মহলের।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে আইপ্যাক ঘিরে ইডির এই তল্লাশি রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন