‘বাংলাদেশি’! তৃণমূলের লাভলি খাতুনকে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে সরাল প্রশাসন

মালদা: তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি বাংলাদেশী৷ তিনি বাংলায় এসে নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো ওবিসি কার্ড বানিয়েছেন৷ সেই অভিযোগেই মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের…

মালদা: তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি বাংলাদেশী৷ তিনি বাংলায় এসে নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো ওবিসি কার্ড বানিয়েছেন৷ সেই অভিযোগেই মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লাভলি খাতুনকে পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রধান পদ থেকে সরিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। আগেই তাঁর ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছিল৷ পঞ্চায়েত প্রধান পদ থেকে অপসারণ ছিল সময়ের অপেক্ষা৷ 

বিগত কয়েক মাস ধরে লাভলি খাতুনকে নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি ভুয়ো নথি পেশ করে ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম উঠিয়েছেন। এরই মধ্যে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। আদালত জানিয়েছিল, লাভলি খাতুন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন।

   

এ বিষয়ে, ২০১৫ সালে লাভলি খাতুনের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ সালে তিনি ভুয়ো জন্মনথি জোগাড় করেন এবং স্থানীয় বাঘমারা এলাকার শেখ মুস্তাফা নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর বাবা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি করেন। তবে, স্থানীয়রা দাবি করেন, শেখ মুস্তাফার কোনও সন্তান ছিল না এবং লাভলির নামও ওই পরিবারে ছিল না।

লাভলির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় তাঁর পক্ষে কিছু সাক্ষী সই দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সাক্ষীদের অভিযোগ, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে এবং তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

এদিকে, লাভলি খাতুনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লাভলির পঞ্চায়েত সদস্য পদ খারিজ হলেও প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। লাভলির পক্ষে কোনও মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।