ডিজিটাল গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে ১৮০ কোটি টাকারও বেশি টাকা হাতানোর অভিযোগে কলকাতা পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। চিরাগ কাপুর এবং যোগেশ দুয়াকে গ্রেপ্তার করার পর, এবার তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যে সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে ইডির এটি প্রথম মামলা। (digital arrest scam ed investigation)
ইডি জানায়, এই দুই ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং শহরে এক বিশাল প্রতারণা চক্র গড়ে তুলেছিল। এরই মধ্যে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০০টি মামলা দায়ের হয়েছে। চিরাগ ও যোগেশ এর আগে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে, তাঁরা জেলবন্দি ছিলেন। শুক্রবার তাঁদের নগর দায়রা আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তাঁদের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডির হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।
কিভাবে কাজ করেছিল চক্রটি? digital arrest scam ed investigation
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চিরাগ ও যোগেশ নিজেদের পুলিশ বা সিবিআই অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন করত। তারা বলত যে, তাদের ডিজিটাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে বিপদে পড়তে হবে। তাদের মোবাইল নম্বরে পুলিশ বা সিবিআইয়ের ছবি থাকত, যা লোকজনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত। এভাবে, তারা কলকাতার গল্ফগ্রিনের এক মহিলার কাছ থেকে ৪৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।
তদন্তের অগ্রগতি digital arrest scam ed investigation
পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার পর, লালবাজারের সাইবার থানার গোয়েন্দারা জানতে পারেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এই সূত্র ধরেই আনন্দপুর, পাটুলি এবং নরেন্দ্রপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০৫টি ব্যাংক পাসবই, ৬১টি মোবাইল, ৩৩টি এটিএম কার্ড, ১৪০টি সিম কার্ড, ৪০টি জাল সিল, ১০টি লিজ চুক্তি এবং অন্যান্য নথি উদ্ধার করা হয়।
ইডি অভিযান digital arrest scam ed investigation
এই সূত্র ধরে, বেঙ্গালুরু থেকে চিরাগ কাপুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরা করে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার হয় ওঙ্কার সিং। দিল্লি পুলিশ বিবেক বিহার থেকে যোগেশ দুয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা নগদ এবং প্রচুর বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ digital arrest scam ed investigation
এছাড়া, ইডি জানিয়েছে, চিরাগ ও যোগেশের সম্পত্তি এবং টাকার লেনদেনের বিষয়ে আরও তদন্ত চলবে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিদেশি মুদ্রা এবং টাকার লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যোগেশের ভাই আদিত্যকেও জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে ইডি।
এই ঘটনা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের শক্তিশালী পদক্ষেপকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।