
২০২১ সালে ২০০ আসন জয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বিজেপি (BJP)। এবার প্রশ্ন উঠছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) কি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির (BJP) জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে? এই প্রশ্ন ঘিরেই রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। এমন আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে দলের জন্য নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন।
সেটিং নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কড়া বার্তা তথাগতর
অমিত শাহ জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে’। এরপর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দু’পক্ষই দুই-তৃতীয়াংশের দাবি করায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এবারের লড়াই হবে ‘ফাটা ফাটি, একেবারে হাড্ডাহাড্ডি সংঘর্ষ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের স্লোগান ছিল “এবার ২০০ পার”। কিন্তু বাস্তবে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য ছিল ৪২টির মধ্যে ৩০টি আসন জেতা। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, আসন কমে ১৮ থেকে ১২ নেমে আসে। যদিও লোকসভা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী বিজেপি প্রায় ৯০টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে।
নভেম্বরে বিহারে এনডিএ-র জয়ের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করছেন নরেন্দ্র মোদি। ডিসেম্বরে রাজ্যে এসে তিনি ‘পরিবর্তন’র হুঙ্কার দেন। তাঁর ডান হাত অমিত শাহ আরও কড়া ভাষায় বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলব।” পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যাঙ্গাত্মক শুরে বলতে শোনা যায়, “বিজেপি জিতবে না, ঘেঁচু হবে।”
নির্বাচনের আগেই কোচবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে পালাবদল
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপি সূত্রের দাবি, ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে তারা শাসক দলকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘মা, মাটি, মানুষ’। তাদের অভিযোগ, মাটি দখল করে নিয়েছে অনুপ্রবেশকারী ও মাফিয়ারা। এই মন্তব্য ধরে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যে কতজন বাংলাদেশি ও কতজন রোহিঙ্গা রয়েছে? তার একটি প্রকাশ্য তালিকা দেওয়া হোক।”
রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে পথে নামছেন। বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও জনসভা করে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি সূত্রের মতে, অমিত শাহ দলের মধ্যে একটি নতুন ছন্দ তৈরি করে দিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারসহ সব নেতাই একসঙ্গে লড়াইয়ে নামবেন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা মন্তব্য, “অমিত শাহ আসবেন, যাবেন। ২০২১ সালেও এসেছিলেন, গিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদিও এসেছিলেন, গিয়েছেন। বাংলার মাটি শক্ত। বাংলার মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের জন্য সরকার গঠন করবে।”
এর মধ্যেই জানা গেছে, চলতি মাসেই আবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি সূত্র অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি মালদহ ও ১৮ জানুয়ারি হুগলিতে জনসভা করার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ আগে থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।










