২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে৷ এরই মাঝে বুধবার সল্টলেকের একটি হোটেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন ‘আদি’ ও ‘নব্য’ নেতৃত্ব। এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি। গত আট মাস ধরে দলের মূল স্রোত থেকে কার্যত দূরে থাকা দিলীপবাবুর এই ‘প্রত্যাবর্তন’ বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে এক নতুন মোড় নিয়ে এল।
কেন দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি এত তাৎপর্যপূর্ণ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। বিশেষ করে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এমনকি মঙ্গলবার রাতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকেও তাঁকে দেখা যায়নি। কিন্তু বুধবার শাহের ডাকা সাংসদ ও বিধায়কদের বিশেষ বৈঠকে তাঁর আমন্ত্রণ এবং উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল যে, দিল্লি নেতৃত্ব বাংলার অভিজ্ঞ নেতাদের হাতছাড়া করতে নারাজ।
শাহী বার্তায় কি গলছে বরফ? Amit Shah meeting with Dilip Ghosh
বুধবারের বৈঠকে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, সুভাষ সরকার এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো প্রাক্তন সাংসদদেরও দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে ২০২৬-এর লড়াইয়ে কোনো বিভাজন নয়, বরং অভিজ্ঞ ও তরুণ-উভয় প্রজন্মকেই একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। সায়েন্স সিটির কর্মী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এই বৈঠকের মাধ্যমেই শাহ দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমনের প্রাথমিক ধাপটি সম্পন্ন করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
