২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার একটি বিস্তারিত অফিসিয়াল রিপোর্ট প্রকাশ করল ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পুলিশের নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, গত এক বছরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনাই ‘সাম্প্রদায়িক’ নয়, বরং সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সরকারি রিপোর্টের মূল পরিসংখ্যান
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এবং ডঃ ইউনূসের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর মোট ৬৪৫টি অপ্রীতিকর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি তৈরি করা হয়েছে এফআইআর (FIR), জেনারেল ডায়েরি (GD), চার্জশিট এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে।
সাম্প্রদায়িক বনাম অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনা 645 minority-related incidents in Bangladesh
রিপোর্টে ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা হয়েছে-
সাম্প্রদায়িক ঘটনা (৭১টি): মোট ঘটনার মাত্র ১১% সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মন্দির ভাঙচুর, ধর্মীয় স্থানে অগ্নিসংযোগ, মূর্তি অপবিত্রকরণ এবং একটি খুনের ঘটনা।
অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনা (৫৭৪টি): ৮৯% ঘটনাই সাধারণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এর নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি নিয়ে বিবাদ, পাড়া-প্রতিবেশীর কোন্দল, রাজনৈতিক রেষারেষি, চুরি এবং যৌন সহিংসতার মতো বিষয়।
পুলিশি তৎপরতা ও সরকারের প্রতিশ্রুতি
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ৬৪৫টি ঘটনার অধিকাংশতেই পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কয়েক’শ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বহু অভিযুক্তকে ইতিমধ্য়েই গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো গুজব ও বিভ্রান্তি দূর করা। ডঃ ইউনূসের বিবৃতি অনুযায়ী, “বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও নির্ভুল তথ্যের সাথে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ভারতের উদ্বেগ ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন যে, সংখ্যালঘু নির্যাতনকে ‘অন্য কারণ’ বা ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের সেই কড়া বার্তার কয়েক দিনের মধ্যেই ইউনূস সরকার এই তথ্য প্রকাশ করে স্পষ্ট করতে চাইল যে, তারা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট।
