কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে একটি বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে (government benefits)। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের সরকারি কল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা আর দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সরকার।
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্টভাবে বলেছেন, “যিনি এই দেশের নাগরিক নন, তিনি সরকারি সুবিধা পাবেন না।”নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির কারণে বাদ পড়া ২৭ লক্ষেরও বেশি নাম নিয়ে বিতর্ক ছিল। অনেক পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, নামের বানানে সামান্য অমিল, ঠিকানার অসংগতি বা নথির অভাবে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ শেষমেশ ইডির দফতরে ডেপুটি কমিশনার! আজই হতে পারেন গ্রেফতার
এখন সেই তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে নতুন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করার পরিকল্পনা করছে সরকার।মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমরা জুন মাসের ১ তারিখের আগে বিশ্লেষণ করব। যাদের নাম কাটা গেছে, তাদের মধ্যে যারা আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাদের নাম সরিয়ে নেওয়া হবে। মৃত ব্যক্তি সুবিধা পাবেন না, যারা দেশের নাগরিক নন তারাও পাবেন না।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, যাদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাদেরও আপাতত সুবিধার তালিকায় রাখা হবে না। তবে সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধন আইন)-এর আওতায় যারা আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কোনো কোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেক সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ, যাদের নথিপত্র সঠিকভাবে আপডেট করা ছিল না, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকা পরিষ্কার করারই অংশ নয়, সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী শুবেন্দু অধিকারীও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প চালানোর কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা অ-নাগরিকদের সুবিধা দেওয়া হবে না। এতে রাজ্যের আর্থিক সংস্থান সঠিকভাবে ব্যবহার হবে বলে তাঁদের দাবি।




















