কলকাতা: জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (foreign nationals) সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র। ২০২৪ সালে বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটিতে বিদেশিদের দ্বারা সংঘটিত মোট ৯৯২টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ইউনিয়ন টেরিটরিগুলির মধ্যে দিল্লি শীর্ষে রয়েছে বিদেশিদের দ্বারা অপরাধ এবং বিদেশিদের বিরুদ্ধে অপরাধ, দুই ক্ষেত্রেই।সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের। গত বছর সারা দেশে ৩,০৯১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভোট চুরি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারেন মমতা? কি মত আইনজ্ঞদের?
এরপরেই রয়েছে নাইজেরিয়ান নাগরিকরা ৫০৯ জন, নেপালি ৪৭৬ জন এবং মায়ানমারের ২৪৫ জন। এই তথ্যগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সমস্যা কতটা গুরুতর।পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ রাজ্যটি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, জাল নথি তৈরি, মাদক চোরাচালান এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরা জড়িত থাকেন।
কলকাতা, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়। রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনেক সময় অবৈধভাবে বসবাসকারীরা ছোটখাটো অপরাধ থেকে শুরু করে গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়েন।দিল্লিতে বিদেশিদের দ্বারা অপরাধ এবং তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে শহরটির বড় মেট্রোপলিটন চরিত্রকে দায়ী করা হচ্ছে।
রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের মানুষ কাজ, পড়াশোনা বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু তার মধ্যে একাংশ জড়িয়ে পড়েন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুসারে, মাদক, জালিয়াতি, ছিনতাই এবং সাইবার অপরাধে বিদেশিদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।এনসিআরবি প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের অবৈধ অনুপ্রবেশের ফল।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ বিভিন্ন নেতা এই তথ্য তুলে ধরে কেন্দ্রের কাছে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, রাজ্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই দেখা যাচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয় চাকরি, জমি ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা দরকার।




















