কলকাতা: রাজ্যে এলপিজি সঙ্কটের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন৷ নবান্নে (Nabanna) চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম৷ এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এলপিজি মজুত, সরবরাহ এবং বিতরণ পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে৷
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস সরবরাহে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন, গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার চেষ্টা করবে। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় থাকে৷ শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস সরবরাহ চালু রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে৷
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে৷ প্রথমেই রয়েছে বাড়ির রান্নার গ্যাস৷ পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি ও আইসিডিএস কেন্দ্র, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি হোস্টেল বা আবাসনকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে৷
প্রশাসনের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিশু পুষ্টি সংক্রান্ত পরিষেবাগুলি যাতে ব্যাহত না হয়, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি৷ অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না৷ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ছোট খাবারের দোকান ও জরুরি খাদ্য পরিষেবাগুলি চালু রাখা যায়৷
সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ডেলিভারি গাড়ি মোতায়েন, বটলিং প্ল্যান্ট থেকে সিলিন্ডার পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো এবং এলপিজি ট্যাঙ্কারকে অত্যাবশ্যক পরিবহণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে গ্যাস পরিবহণের জন্য বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷




















