ঢাকা: দোরগোড়ায় বাংলাদেশের নির্বাচন। এই আবহেই ফের একবার(Jamaat )উত্তেজনা ছড়াল রাজনৈতিক অঙ্গনে। এবার নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সম্প্রতি তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জামাত নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি তিনি শুনেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূত লেখেন, “আমেরিকা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
রাজনৈতিক মহল এই বিতর্কে সামিল হয়ে মন্তব্য করেছেন যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং তার সঙ্গে বিএনপি চাপে। ঠিক এই আবহেই আমেরিকা চাইছে ইউনুস এবং জামাতের পাশে দাঁড়াতে। এবং কূটনীতিকদের মতে বাংলাদেশে জামাত শক্তিশালী হলে জামাতের আড়ালে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শানাবে আমেরিকা। এর পিছনে কারণ হিসেবে তারা বলেছেন এমনিতেই BRICS কারেন্সি চালু হওয়ার পর থেকে কার্যত কোনঠাসা ট্রাম্প। তার উপরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা এবং সম্প্রতি ইইউ এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পকে আরও বিপাকে ফেলেছে। তাই আমেরিকা চাইছে বাংলাদেশে জামাতের ভিত্তি শক্ত হোক।
আজ সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ করবেন হুমায়ুন! রাজনীতির ময়দানে নয়া সমীকরণ?
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কারণ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে অতীত থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ভূমিকা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে দলের একাধিক নেতার সাজা সব মিলিয়ে বাংলাদেশে জামায়াত এক সংবেদনশীল রাজনৈতিক নাম। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রকাশ্য বৈঠক ও প্রশংসাসূচক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
এদিকে আওয়ামি লিগের নেতারা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে আমেরিকা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। তাঁদের দাবি, একটি নির্বাচিত সরকারকে কোণঠাসা করে এমন শক্তিকে সামনে আনা হচ্ছে, যারা অতীতে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধিতা করেছে। আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, আর সেই ফাঁক পূরণ করতেই জামাতকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে বিএনপির অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। এতদিন আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বিএনপিই ছিল মূল বিরোধী শক্তি হিসেবে যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এখন যদি ইউনূস-জামাত জোটকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়, তাহলে বিএনপি আরও কোণঠাসা হতে পারে বলেই আশঙ্কা দলের একাংশের। তবে মার্কিন কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, আমেরিকা কোনও নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করছে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
তবে বেছে বেছে রাষ্ট্রদূত কেন জামাতের সঙ্গেই দেখা করলেন তা নিয়েই সন্দেহ অনেকের। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বলছেন যে অতীতেও এই জাতীয় দুরভিসন্ধি করেছে আমেরিকা এবং তার প্রমান ও পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে আমেরিকার সমর্থন জামাতকে ক্ষমতায় আনতে পারে কিনা বা তাদের কতটা শক্তিশালী করতে পারে সেটাই দেখার।




















