আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)পেশ করেছেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, এবং এবারের বাজেটে পরিকাঠামো খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডোরের প্রস্তাব, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রুত, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ গড়ে তুলবে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডোর এবং মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ রেল করিডোর। অর্থমন্ত্রী এগুলোকে ‘গ্রোথ কানেক্টর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।বাজেট ভাষণে নির্মলা সীতারামন বলেছেন, “পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার জন্য আমরা সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডোর গড়ে তুলব।
এগুলো মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি।” এই করিডোরগুলো দীর্ঘদূরত্বের যাত্রায় সময় কমাবে, কার্বন নির্গমন হ্রাস করবে এবং শিল্প-বাণিজ্যের নতুন দ্বার খুলবে। বিশেষ করে বারাণসী-শিলিগুড়ি করিডোর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভারতের যোগাযোগকে বিপ্লবী করে তুলবে।
কেন্দ্রীয় বাজেটে ৪ টি রাজ্যে তৈরী হবে খনিজ করিডোর
বারাণসী, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, থেকে শিলিগুড়ি যা উত্তর-পূর্বের গেটওয়ে এই রুটে হাই-স্পিড ট্রেন চালু হলে পর্যটন, বাণিজ্য এবং লজিস্টিক্সে নতুন গতি আসবে। এতে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের মতো রাজ্যগুলো উপকৃত হবে এবং উত্তর-পূর্বের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।অন্যদিকে, মুম্বই-পুনে করিডোর মহারাষ্ট্রের দুটি প্রধান শহরকে আরও কাছে নিয়ে আসবে।
মুম্বই দেশের আর্থিক রাজধানী এবং পুনে শিক্ষা-শিল্পের হাব। বর্তমানে এই রুটে যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা, হাই-স্পিড রেলে তা অনেক কমে যাবে। এতে দৈনিক যাত্রীদের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং পুনে-মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চল আরও একীভূত হবে। পুনে-হায়দরাবাদ করিডোরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পুনে আইটি ও অটোমোবাইল শিল্পের কেন্দ্র, আর হায়দরাবাদ ফার্মা ও আইটি হাব। এই দুটি শহরের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের অর্থনৈতিক করিডোর আরও মজবুত হবে। এটি হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু-চেন্নাই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ ভারতে একটা হাই-স্পিড কোয়াড্রিল্যাটারাল গড়ে তুলবে।এই ঘোষণাগুলো ভারতের ‘ভিকসিত ভারত’ লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সরকারের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা, যেখানে হাই-স্পিড রেল একটা মূল ভূমিকা পালন করবে। এতে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, লজিস্টিক্স ও ফ্রেইট মুভমেন্টও উন্নত হবে। রেলওয়ে স্টকগুলোতে ইতিমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে IRFC, RITES, Jupiter Wagons-এর মতো কোম্পানির শেয়ার বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পগুলো হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন খাতকে চাঙ্গা করবে এবং পর্যটনকে নতুন মাত্রা দেবে।




















