নয়াদিল্লি: আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)পেশ করেছেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা করদাতাদের জন্য একাধিক স্বস্তির ঘোষণা নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণাগুলোর মধ্যে একটি হলো কর ফাঁকি বা কর এড়ানোর ক্ষেত্রে জেলের বদলে মাত্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে ছাড় পাওয়ার সুযোগ।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এই নতুন ব্যবস্থা কর প্রশাসনকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে এবং লিটিগেশন কমিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়াবে।বাজেট ভাষণে নির্মলা সীতারামন বলেছেন, “আমরা কর ফাঁকির ক্ষেত্রে একটা সহজ সমাধানের পথ খুলে দিচ্ছি। যাঁরা কর ফাঁকি করেছেন বা অসততার সঙ্গে আয় লুকিয়েছেন, তাঁরা জেলের ভয় ছাড়াই মাত্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত পেনাল্টি দিয়ে মামলা মিটিয়ে নিতে পারবেন।”
MSME এবং ছোট শহরের জন্যেও বড় ঘোষণা সীতারামনের
এই স্কিমটি বিশেষ করে ছোট-মাঝারি কর ফাঁকির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে জেলের শাস্তির পরিবর্তে পেনাল্টি দিয়ে ছাড় মিলবে। এতে করদাতারা দ্রুত মামলা থেকে মুক্তি পাবেন এবং সরকারও দ্রুত রাজস্ব পাবে। এই ব্যবস্থা ‘ভিভাদ সে বিশ্বাস’ স্কিমের মতোই, যা আগের বছরগুলোতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সরকারের লক্ষ্য লিটিগেশন কমানো এবং কর প্রশাসনকে আরও ট্রান্সপারেন্ট করা।
এই ঘোষণা করদাতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, এতে সত্যিকারের ফাঁকিবাজরা সহজেই ছাড় পেয়ে যাবেন, যা ন্যায়বিচারের সঙ্গে যায় না। তবে অর্থনীতিবিদ ও ট্যাক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা একটা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। বর্তমানে কর ফাঁকির মামলা আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, যাতে সরকারের রাজস্ব আটকে যায় এবং করদাতারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
১০ শতাংশ পেনাল্টি দিয়ে সেটেলমেন্টের সুযোগ দিলে অনেকে স্বেচ্ছায় সামনে আসবেন, যা রাজস্ব বাড়াবে এবং আদালতের চাপ কমাবে। এছাড়া এই স্কিমে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে, যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।এই প্রস্তাব ভারতের কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবে। সরকার ইতিমধ্যে ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট, ট্যাক্সপেয়ার চার্টার এবং দ্রুত রিটার্নের মতো সংস্কার করেছে।
এখন এই নতুন স্কিম যোগ হলে করদাতাদের উপর চাপ কমবে এবং স্বেচ্ছায় কমপ্লায়েন্স বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই সুবিধা যেন শুধু ছোট কেসের জন্য না হয়ে বড় ফাঁকিবাজদেরও কভার না করে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, গুরুতর অপরাধে এখনও কঠোর শাস্তি থাকবে।




















