নয়াদিল্লি: আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)পেশ করেছেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নতুন পথ দেখিয়েছে। বাজেটে ছোট শহর বা টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ছোট শহরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, আর ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ‘এসএমই গ্রোথ ফান্ড’ চালু করা হচ্ছে। এই দুটি উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাজেট ভাষণে নির্মলা সীতারামন বলেছেন, “আমরা টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতে পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছি, যেগুলো এখন দ্রুত বর্ধনশীল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।”
ডানকুনি-সুরাট রুটে পণ্য পরিবহনের জন্য আধুনিক করিডর প্রস্তাব
এর অংশ হিসেবে ‘সিটি ইকোনমিক রিজিয়নস’ (সিইআর) স্কিমের আওতায় প্রতিটি এলাকার জন্য পাঁচ বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টাকা রাস্তা, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা তৈরিতে খরচ হবে। ছোট শহরগুলোতে জনসংখ্যা ৫ লক্ষের বেশি হলে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে পর্যটন, বাণিজ্য এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
অনেক টেম্পল টাউন এবং উদীয়মান শহর এই সুবিধা পাবে, যা স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বরাদ্দ ছোট শহরগুলোকে মেট্রো শহরের চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং সমান্তরাল উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্প বা এমএসএমই খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ‘এসএমই গ্রোথ ফান্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ফান্ডের মাধ্যমে এমএসএমই-দের ইকুইটি সাপোর্ট দেওয়া হবে, যাতে তারা স্কেল আপ করতে পারে, প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে পারে এবং নতুন মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটি ‘চ্যাম্পিয়ন এসএমই’ তৈরির লক্ষ্যে। এছাড়া সেল্ফ রিলায়েন্ট ইন্ডিয়া ফান্ডে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা যোগ করা হবে।
এমএসএমই-দের ক্রেডিট গ্যারান্টি বাড়ানো হয়েছে মাইক্রো ও স্মল এন্টারপ্রাইজের জন্য ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত। মাইক্রো এন্টারপ্রাইজের জন্য ৫ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড স্কিম চালু হচ্ছে, যা প্রথম বছরে ১০ লক্ষ কার্ড ইস্যু করবে। লেগাসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টারগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের ৫.৭ কোটি এমএসএমই, যারা ৭.৫ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দেয় এবং রফতানির ৪৫ শতাংশ করে, তারা আরও শক্তিশালী হবে।




















