নয়াদিল্লি: আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Union Budget)লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ইউনিয়ন বাজেট পেশ করেছেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। বাজেটের মূল ফোকাস ছিল ফিসকাল ডিসিপ্লিন বজায় রেখে টেকসই বৃদ্ধি অর্জন, বিশেষ করে স্ট্র্যাটেজিক ও উদ্ভাবনী খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি ঘোষণা হলো বায়োফার্মা খাতে ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকা এবং সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর অধীনে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ, যার মোট পরিমাণ ৪০,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি যার মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, ডিজাইন, সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণ এবং স্কিলড ওয়ার্কফোর্স তৈরির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
তফশিলি সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা
অর্থমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন, “ভারতকে বিশ্বের গ্লোবাল বায়োফার্মা ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে, যার জন্য পরবর্তী পাঁচ বছরে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।” এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় বায়োলজিক্স ও বায়োসিমিলার উৎপাদন বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে তিনটি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (নাইপার) স্থাপন এবং সাতটি বিদ্যমান নাইপারকে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বায়োফার্মা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য নলেজ, টেকনোলজি ও ইনোভেশনের উপর ভিত্তি করে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগ ভারতকে জটিল ওষুধ ও বায়োটেক প্রোডাক্টের উৎপাদনে স্বনির্ভর করে তুলবে এবং গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।অন্যদিকে, সেমিকন্ডাক্টর খাতে সরকারের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হয়েছে।
ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ১.০-এর সাফল্যের পর এখন ISM ২.০ চালু করা হচ্ছে। এর অধীনে ইকুইপমেন্ট ও ম্যাটেরিয়ালস উৎপাদন, ফুল-স্ট্যাক ডিজাইন, ইন্ডিয়ান আইপি ডেভেলপমেন্ট এবং সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে এই খাতের জন্য প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে, যার একটা বড় অংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)-এ যাবে।
ইন্ডাস্ট্রি-লেড রিসার্চ সেন্টার এবং ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করে টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট এবং স্কিলড মানবসম্পদ তৈরি করা হবে। এই পদক্ষেপ ভারতকে ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ চার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে। ইতিমধ্যে মাইক্রন, টাটা, কায়নেসের মতো কোম্পানির প্রজেক্ট চলছে, এবং এই বাজেট তাদের আরও গতি দেবে।
এই দুটি খাতের বরাদ্দ ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বায়োফার্মা খাতে এই বিনিয়োগ দেশকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গ্লোবাল সাপ্লায়ার করে তুলবে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টরে ফোকাস হবে ইলেকট্রনিক্স, এআই, ইভি এবং ডিফেন্সের মতো সেক্টরে স্বনির্ভরতা অর্জন।




















