কলকাতা: ফের ধাক্কা জোড়াফুল শিবিরে। সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেত্রী ইতিমধ্যেই নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। অসম ও ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে দলের সংগঠন বিস্তারে সুস্মিতাকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল, কিন্তু তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগে সংসদের উচ্চকক্ষেও বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। (tmc rajya sabha mp susmita dev resigns)
সুস্মিতার ইস্তফায় সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াল ১১-তে। তবে সবচেয়ে বড় চমক মিলেছে ইস্তফার ঠিক পরেই। সুস্মিতার সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি হেভিওয়েট হিমন্ত বিশ্বশর্মার একান্ত সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা এখন তুঙ্গে।
উত্তর-পূর্বে তৃণমূলের ‘মেগা প্ল্যান’ ফ্লপ!
কংগ্রেসের প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা ২০১৯ সালে শিলচরে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০২১-এ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে চেনা মুখ সুস্মিতাকে দলে এনে জাতীয় মুখপাত্র করার পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদও করে তৃণমূল। লক্ষ্য ছিল একটাই— সুস্মিতাকে ঢাল করে ত্রিপুরা ও অসমে দলের বিস্তার ঘটানো। কিন্তু বাস্তবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে তৃণমূল খাতা খুলতেই ব্যর্থ হয়। উল্টে বাংলার বাইরের কোনও নেত্রীকে বাংলার কোটায় রাজ্যসভায় পাঠানো নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ইস্তফার পথই বেছে নিলেন তিনি।
দিল্লির সেই ‘গোপন বৈঠক’ ও গেরুয়া জল্পনা
উল্লেখ্য, সোমবার রাতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, তৃণমূলের তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ দিল্লিতে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে সুস্মিতা ছিলেন কি না তা স্পষ্ট না হলেও, বুধবার ইস্তফা দিয়েই যেভাবে তিনি হিমন্ত বিশ্বশর্মার দরবারে পৌঁছে গেলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুস্মিতা ‘এক ফুল ছেড়ে অন্য ফুলে’ যাবেন কি না তা সময়ই বলবে, তবে সই জালিয়াতি ও সিআইডি তদন্তের আবহে সংসদের উচ্চকক্ষে একের পর এক উইকেট পড়ে যাওয়া মমতার দলের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা।




















