তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শিবিরে কি বড় ভাঙনের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে এমনই জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে। সূত্রের খবর, আজ রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সুখেন্দু শেখর রায় এবং কোয়েল মল্লিক। যদিও এখনো পর্যন্ত দলীয় তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও এই সম্ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তাঁর রাজ্যসভায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে সেই সময় রাজনৈতিক মহলে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল বাড়তি আগ্রহ। একজন চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের “নতুন প্রজন্ম ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি” হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনার খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, সুখেন্দু শেখর রায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার ভূমিকা বহুবার আলোচিত হয়েছে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর দলীয় শিবিরে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের একসঙ্গে দুই সাংসদের ইস্তফার খবর সত্যি হলে তা তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাজ্যসভায় দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং কণ্ঠস্বরের উপস্থিতি কিছুটা হলেও দুর্বল হতে পারে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এখনো যথেষ্ট সংখ্যক সাংসদ রয়েছেন, তবুও প্রতিটি পদত্যাগই রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















