HomeUncategorizedমার্কিন মুলুকে FBI এর জালে ইসরায়েল হামলার চক্রী

মার্কিন মুলুকে FBI এর জালে ইসরায়েল হামলার চক্রী

- Advertisement -

ওয়াশিংটন: আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) লুইসিয়ানা রাজ্যের লাফায়েট শহরের এক বাসিন্দা মাহমুদ আমিন ইয়াকুব আল-মুহতাদিকে গ্রেফতার করেছে। এই ৩৩ বছর বয়সী গাজায় জন্মানো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের উপর হামলায় সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন।

এই ঘটনা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ছায়া এই দেশের সীমান্তেও পৌঁছে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।এফবিআই-এর অভিযোগপত্র অনুসারে, আল-মুহতাদি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (ডিএফএলপি)-এর সামরিক শাখা ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ব্রিগেডস (এনআরবি)-এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

   

এই গ্রুপটি হামাসের সাথে যুক্ত এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেয়ার জন্য পরিচিত। সকাল ৬টি ৩৪ মিনিটে, যখন হামাসের হামলা শুরু হয়, তখন আল-মুহতাদির ফোনে একটি সোশ্যাল মিডিয়া মেসেজ আসে: “আমি যুদ্ধ দেখছি।” এর মাত্র কয়েক মিনিট পর তাকে একটি ভিডিও পাঠানো হয়, যাতে হামাসের একটি প্যারাগ্লাইডার ইসরায়েলের দিকে উড়ে যাচ্ছে।

IFA শিল্ড ফাইনালের ডার্বিতে কার দিকে পাল্লা ভারী?

এই খবর পেয়ে তিনি নিজেকে অস্ত্রায়ুধ দিয়ে সজ্জিত করেন, অন্যান্য সশস্ত্র লোকদের জড়ো করেন এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করেন, যাতে হামাসের হামলায় সাহায্য করেন। তার ফোনের ডেটা কিবুতজ কফার আজা-এর কাছাকাছি একটি সেল টাওয়ারের সাথে যুক্ত হয়েছে, যেখানে হামাসের হামলায় অনেক নিরস্ত্র নাগরিক নিহত হয়, যার মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।

এই হামলা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলাগুলোর একটি। হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্ত ভেঙে প্রবেশ করে, কিবুতজগুলোতে হামলা চালায়, সঙ্গীত উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের উপর আক্রমণ করে। ফলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০-এর বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে অসংখ্য মহিলা এবং শিশু ছিলেন।

হামাসের নেতা মুহাম্মদ দেইফের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, “যার কাছে রাইফেল আছে, সেটা বের করো; যার নেই, তারা ছুরি বা কুড়াল নাও।” আল-মুহতাদির এই ঘোষণার পরপরই অ্যাকশনে নামার অভিযোগ করা হয়েছে।

এফবিআই-এর তদন্তে তার সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইমেল অ্যাকাউন্ট থেকে বছরের পর বছর ধরে হামাস-সমর্থিত প্যারামিলিটারি গ্রুপের সাথে যুক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণের ছবি এবং ভিডিওও রয়েছে। একটি ছবিতে তাকে গ্লক হ্যান্ডগান এবং ম্যাগাজিন হাতে ধরে দেখা যাচ্ছে, যা তার ওকলাহোমার টালসা অ্যাপার্টমেন্টে তোলা।

হামলার পর আল-মুহতাদি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসেন। ২০২৪ সালের ২৬ জুন তারিখে কায়রো থেকে একটি ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন করেন, যাতে তিনি তার ডিএফএলপি, এনআরবি এবং হামাসের সাথে যুক্ততা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশগ্রহণের বিষয়গুলো লুকিয়ে ফেলেন। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ তিনি মার্কিন সীমান্তে প্রবেশ করেন এবং লাফায়েটে বসবাস শুরু করেন।

এই মিথ্যা তথ্যের কারণে তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি এবং অন্যান্য নথিপত্রের অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এফবিআই-এর অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি “একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে উপকরণ সরবরাহ করার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র” করেছেন, যা ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular