
পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ চাপ বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার উপর। পুলিশের (TMC leader returns alleged extortion money) ধারাবাহিক অ্যাকশন এবং একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা।
গোসাবায় সম্প্রতি (TMC leader returns alleged extortion money) এমন একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে তৃণমূল পরিচালিত এলাকাগুলিতে একাধিক জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। সেই পুরনো অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। জানা গিয়েছে, গোসাবার এক তৃণমূল নেতা (Gosaba TMC Leader) সম্প্রতি এক বিজেপি কর্মীকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। আর সেই ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। সেই সময় বিজেপি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে নানাভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি। অভিযোগ, সেই সময় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছিল। যদিও সেই অভিযোগ নিয়ে তখন প্রশাসনিক স্তরে বড় কোনও পদক্ষেপ হয়নি।
তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর আচমকাই সেই পুরনো ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি ওই বিজেপি কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। এরপরই তিনি আগের নেওয়া অর্থ ফেরত দেন বলে জানা গিয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি কেউ মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন এবং পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি ঘরোয়া পরিবেশে বসে তৃণমূল নেতা ওই বিজেপি কর্মীর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। যদিও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে তা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে অতীতে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকে চাপের মধ্যে রাখা হতো।
অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিষয়টি এখন পুরনো হয়ে যাওয়া একটি পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ভিডিওকে ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে আনা হচ্ছে এবং তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, সব ঘটনা যে তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।













