
নন্দীগ্রাম : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে নজর ছিল গোটা দেশের। এই দুই কেন্দ্রেই বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শুরু থেকেই নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বারবার দাবি করেছেন যে এবারের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপিই সরকার গঠন করতে চলেছে।
Read More: বাংলায় এক্সিট পোল করতে নারাজ অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া
প্রথম দফা (Suvendu Adhikari) থেকে শেষ দফা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময়েই শুভেন্দু অধিকারীর(Suvendu Adhikari) বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ। বিভিন্ন জনসভা, প্রচার মঞ্চ কিংবা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপি। এমনকি কত আসনে বিজেপি জয়লাভ করতে পারে, সে সম্পর্কেও আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল প্রকাশ্যে এসেছে। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপিরই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বুথফেরত সমীক্ষা কখনওই চূড়ান্ত ফলাফল নয়। অতীতেও বহু ক্ষেত্রে এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের মিল পাওয়া যায়নি।
Read More: ডবল ইঞ্জিনের নারী নিরাপত্তার নমুনায় বন্ধ বিদেশিনী আগমন! দাবি পট্টনায়েকের
এই পরিস্থিতিতেই শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁর এক্সিট পোল দেখার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “আমার কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষা দেখার দরকার নেই। আমি নিশ্চিত যে বিজেপি সরকার গঠন করবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “২০১১ সালের থেকেও এবার মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং সেই পরিবর্তন নিশ্চিত।” উল্লেখ্য, ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। সেই প্রেক্ষাপট টেনে এনে শুভেন্দুর এই মন্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Read More: ১৮০ র কম নয়! দাবি শুভেন্দু এক্সিট পোলের
শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) শুধু এক্সিট পোলকে অগ্রাহ্যই করেননি, বরং তিনি ‘প্র্যাকটিক্যাল পোল’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং ভোটের দিন বুথে বুথে যে প্রতিক্রিয়া তিনি পেয়েছেন, সেটাই তাঁর কাছে আসল সূচক। অর্থাৎ, কাগুজে সমীক্ষার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকেও সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের (Suvendu Adhikari) মানুষ এবার শাসন পরিবর্তনের পক্ষে একজোট হয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ভোটদানের প্রবণতা দেখা গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, মুসলিম ভোটেরও একটি অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম ভোট বিজেপির পক্ষে এসেছে।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই দাবিগুলি অবশ্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিতর্কিতও বটে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে বারবার। ফলে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।












