শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য। সন্দেহজনক দুই মার্কিন নাগরিককে আটক ( US nationals detained)করা হয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাদের লাগেজ থেকে একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।রবিবার (১৯ এপ্রিল) শ্রীনগর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে রুটিন তল্লাশির সময় এই দুই বিদেশি নাগরিকের লাগেজ থেকে স্যাটেলাইট ফোনটি পাওয়া যায়।
ভারতে স্যাটেলাইট ফোন বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের ডিভাইসের উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচিত হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।একজনের নাম জানা গেছে জেফরি স্কট, মন্টানার বাসিন্দা। অন্যজনের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ চাকরি হারানোর পর আপনার পিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ কি পাবেন?
তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য, স্যাটেলাইট ফোন কেন সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন, কারা তাদের এটি দিয়েছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ প্রকাশ করা হয়নি। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি (ইন্টেলিজেন্স) ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে।ভারতীয় আইন অনুসারে, স্যাটেলাইট ফোন বা অনুরূপ স্যাটেলাইট-সক্ষম যন্ত্র বিনা অনুমতিতে বহন করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
বিশেষ করে কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এ ধরনের ডিভাইসের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। কারণ এগুলো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে অতীতে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “রুটিন সিকিউরিটি চেকের সময় ডিভাইসটি ধরা পড়ে। আমরা তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং সব যাত্রীর লাগেজ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।এই ঘটনা কাশ্মীরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তুলেছে। জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। অতীতেও বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা পরে তদন্তের পর সাধারণত আইনি প্রক্রিয়ায় চলে যায়।




















