HomeSports News‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে নীল বাঘিনীদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাই!

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে নীল বাঘিনীদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাই!

- Advertisement -

প্রতিবেশী বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের (AFC Womens Asian Cup 2026 Qualifier) মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তাই ভারতীয় ফুটবল (Indian Football Team) মহলে প্রশ্নটা এখন অনেকের মুখে ‘তবে কি ভারত পারবে?’ যে দেশ একসময় এশিয়া মহিলাদের ফুটবলে দাপট দেখাত, সেই দেশ এখন ১২টি চূড়ান্ত দলের মধ্যে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়ছে শেষ ম্যাচে। আগামীকাল অর্থাৎ ৫ জুলাই, সেই উত্তরের দিন। ভারতের (India) প্রতিপক্ষ গ্রুপ বি’র শক্তিশালী থাইল্যান্ড (Thailand)। আর এই ম্যাচই কার্যত যোগ্যতা অর্জন পর্বের ফাইনাল।

   

বাংলাদেশ মহিলা দল ইতিমধ্যেই ইতিহাস রচনা করেছে। মায়ানমারকে হারিয়ে এবং বাহরিন-তুর্কমেনিস্তান ম্যাচ ড্র হওয়ার ফলে প্রথমবারের মতো তারা এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিয়েছে। ফুটবলপ্রেমী ভারতীয়দের মনেও এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ভারত কি পিছিয়ে পড়বে?

ভারতের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। মঙ্গোলিয়াকে ১৩-০, তিমুর লেস্তেকে ৪-০ এবং ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়েছে ‘ব্লু টাইগ্রেস’রা। তিন ম্যাচে ২২টি গোল করেও ভারত নিশ্চিত নয় এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।

ঠিক একই পারফরম্যান্স দিয়েই থাইল্যান্ডও তৈরি করেছে চ্যালেঞ্জ। তারা মঙ্গোলিয়াকে ১১-০, ইরাককে ৭-০ এবং তিমুর লেস্তেকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে। গোলসংখ্যা ভারত ও থাইল্যান্ড উভয়েরই সমান ২২। পয়েন্ট, গোল পার্থক্য, গোল সংখ্যা—সবই সমান। এমন পরিস্থিতিতে, ৫ জুলাইয়ের ম্যাচে যার জয়, সেই যাবে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। ড্র হলে ৯০ মিনিট পর সরাসরি টাইব্রেকার, শক্ত নার্ভ ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা।

ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জয়, গোলের ব্যবধান নয়।” তবু ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচে দুইটি বাতিল হওয়া গোল নিয়ে আক্ষেপ ছিল তার কণ্ঠে। লিন্দার দুটি গোল বৈধ ছিল। ওই গোলগুলো হলে শুধু গোল ব্যবধান নয়, একজন তরুণীর আত্মবিশ্বাস বাড়ত অনেকটাই।”

মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মনীষা কল্যাণকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঢেউ। অনেকের মতে, তিনি খেললে আরও বড় ব্যবধানে জয় আসত। এখন সেই এক গোলের অভাবেই থাইল্যান্ড ম্যাচের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি কিছুই।

থাইল্যান্ড বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৬-এ, আর ভারত ৭০ নম্বরে। স্পষ্টতই র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে ভারত, তবে মাঠের খেলায় ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছে ব্লু টাইগ্রেসরা। চাপটা তবু থাকছেই, কারণ একটিও ভুল হতে পারে সর্বনাশের কারণ।

চাপের মাঝেও উঠে আসছে একের পর এক তরুণ মুখ। ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ফানজোবম নির্মলা দেবী করেছেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। তাও আবার দুর্দান্ত লং রেঞ্জ শটে। “দেশের হয়ে গোল করা স্বপ্নের মতো। এখন শুধু চাই থাইল্যান্ড ম্যাচে আরও ভালো পারফর্ম করতে,” জানিয়েছেন নির্মলা।

তবে অভিজ্ঞতা-তরুণ উদ্যমের মিশ্রণেই শক্তি খুঁজছে দল। ৬৮ ম্যাচ খেলা মিডফিল্ডার সঙ্গীতা বাসফোর জানান , “আমাদের দলে অনেক নতুন মুখ। কিন্তু সবাই একসঙ্গে লড়ছি। কেউ নিজের জায়গা নিশ্চিত ধরে নিচ্ছে না। সবাই দলের জন্য। আর এই একতা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তিমুর লেস্তের বিরুদ্ধে নাক ভেঙে ছিটকে গেছেন মিডফিল্ডার সৌম্যা গুগুলোথ। কিন্তু মেয়েরা তাঁকে ভুলে যায়নি। শেষ ম্যাচের আগে ফটোসেশনে তাঁর জার্সি তুলে ধরেছিলেন সতীর্থরা। সঙ্গীতার কথায়, “আমরা সৌম্যার জন্য খেলছি। ওর স্বপ্ন পূরণ করতেই আমরা মাঠে নামছি।”

২০০৩ সালে শেষবার যোগ্যতার মাধ্যমে ভারতীয় মহিলা দল এশিয়ান কাপে খেলেছিল। ২০২২ সালে তারা খেলেছিল আয়োজক দেশ হিসেবে। অর্থাৎ, প্রায় দুই দশক হয়ে গেল, যোগ্যতার মাধ্যমে জায়গা হয়নি এশিয়ান কাপে। এবার সেই সুযোগ এসেছে, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের। সামনে শক্তিশালী থাইল্যান্ড, কিন্তু ভারতের হাতে রয়েছে আশালতা দেবী, মনীষা কল্যাণ, সন্ধ্যা রঙ্গনাথন, গ্রেস ডাংমেইদের মতো কার্যকরী অস্ত্র।

Indian Football Team face Thailand in must win clash for AFC Womens Asian Cup 2026 Qualifier

- Advertisement -
Subhasish Ghosh
Subhasish Ghoshhttps://kolkata24x7.in/author/sports-news-desk
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক। ২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular